১ দিনে ১১০ কোটির জমি কেনেন বাচ্চু

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৬ এএম

 

 

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ক্যান্টনমেন্ট বাজার এলাকায় ৩০ দশমিক ২৫ কাঠা আয়তনের একটি জমি কেনেন ১১০ কোটি টাকায়। অথচ জমির দাম দেখানো হয় ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। জমি কেনার নামে ৯৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা স্ত্রী, সন্তান ও ভাইয়ের নামে হস্তান্তর, স্থানান্তর করেন তিনি। এ ছাড়া জমিটি কিনতে ৮ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার কর ফাঁকি দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে আসে। বেশি মূল্যে জমি কিনে কম দামে রেজিস্ট্রি ও কর ফাঁকির অভিযোগে আবদুল হাই বাচ্চুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মো. নূরুল হুদা বাদী হয়ে গত ২ অক্টোবর মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে ১১০ কোটি টাকায় জমি কিনে ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করেন। তিনি জমি কেনার নামে ৯৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা স্ত্রী, সন্তান ও ভাইয়ের নামে

            পৃষ্ঠা ১১ কলাম ৬ >

 

 

১ দিনে ১১০ কোটির জমি কেনেন বাচ্চু হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তর ও গোপন করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন তার স্ত্রী শিরিন আক্তার, ভাই শেখ শাহরিয়ার পান্না, ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক ও শেখ রাফা হাই এবং জমির মালিক ক্যাপিটাল বনানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীন আহমেদ। এখন মামলার তদন্ত চলছে। দুদকের সহকারী পরিচালক নেয়ামুল আহসান গাজী মামলাটি তদন্ত করছেন। মামলার তদন্তকালে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের আসামি করা হবে।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার সময় ২০১২ সালে শেখ আবদুল হাই ক্যান্টনমেন্ট বাজার এলাকায় ৩০ দশমিক ২৫ কাঠার একটি প্লট কেনেন। ওই বছরের ৮ আগস্ট তিনি ১১০ কোটি টাকায় প্লটটি কেনার জন্য জমির মালিক রাজধানী ধানম-ির বাসিন্দা আমীন আহমেদের সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তির সময় ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। পরে একই বছরের ১৬ অক্টোবর দুটি দলিলের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করেন। ওইদিন ১০০ কোটি টাকায় পরিশোধ করেন। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রির সময় মূল্য দেখান ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮০৮৫ নম্বর দলিলে আবদুল হাই বাচ্চু, তার স্ত্রী শিরিন আক্তার ও ভাই শেখ শাহরিয়ার পান্নার নামে ১৮ কাঠা জমির দাম ৯ কোটি এবং ৮০৮৬ নম্বর দলিলে দুই ছেলে শেখ ছাবিদ হাই অনিক ও শেখ রাফা হাইয়ের নামে ১২ দশমিক ২৫ কাঠার দাম ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকাসহ ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা দেখানো হয়। এ ক্ষেত্রে তিনি ৯৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার তথ্য গোপন করেন। তিনি জমি রেজিস্ট্রিতে সরকারের ৮ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কর ফাঁকি দেন।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধান টিম এ বিষয়ে জমির মালিক আমিন আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে ১১০ কোটি টাকায় জমি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। ক্রেতার কথায় জমি ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকায় রেজিস্ট্রি করতে রাজি হয়েছেন বলে জানান।

অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, আবদুল হাই বাচ্চু তার আয়কর নথিতে জমিটির ক্রয়মূল্য দেখান ২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৩৮ হাজার ৪৫৪ টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে তার আয়-ব্যয় ও প্রকৃত সম্পদের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। দুদকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, তিনি বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত অর্থ থেকে জমি কেনেন।

দুদকের তথ্য বলছে, শেখ আবদুল হাই ২০০৯-১৪ পর্যন্ত সময়ে দুই দফায় বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ সময় ব্যাংকটি থেকে ২ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে। অনুসন্ধান শেষে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে দুদক মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ৫৯টি মামলা করে। মামলা হওয়ার আট বছর পর গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে শেখ আবদুল হাইসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ৫৮টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত