ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। তাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) গতকাল বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়। ফলে এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকা খাদিজার জামিনে মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজার বিরুদ্ধে অনলাইনে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচার ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ২০২০ সালের অক্টোবরে রাজধানীর কলাবাগান ও নিউ মার্কেট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়। এ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকেও আসামি করা হয়। গত বছরের ২৭ আগস্ট খাদিজাকে মিরপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিচারিক আদালতে একাধিকবার জামিনের আবেদন না মঞ্জুরের পর হাইকোর্টে আবেদন করলে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাকে জামিন দেয়। পরে জামিনের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করলে ১৯ ফেব্রুয়ারি জামিন স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠায় চেম্বার আদালত। গত ১০ জুলাই আপিল বিভাগ এক আদেশে খাদিজার জামিন শুনানি চার মাস মুলতবি (স্ট্যান্ডওভার) করে। ফলে এ সময় পর্যন্ত তার জামিন স্থগিত থাকে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে।
আদালতে খাদিজার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী বি এম ইলিয়াস কচি ও জ্যোতির্ময় বড়–য়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম।
অ্যাডভোকেট বি এম ইলিয়াস দেশ রূপান্তরকে বলেন, এক বছর তিন মাস ধরে কারাগারে আছেন খাদিজা। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
