কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না ভোগ্যপণ্যের দামে। বাজারে এক পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও অন্য পণ্যের দাম দ্বিগুণ হারে বাড়ে। সরবরাহ ভালো থাকায় শীতকালীন সবজিতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল-চিনি ও মুরগির দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি চালে ৫ ও চিনির কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লারের দাম বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। হঠাৎ করে চাল-চিনির দাম বাড়ার যৌক্তিক কোনো কারণ জানা নেই কারোরই।
চিনির দামের বাড়াবাড়ির কারণে সম্প্রতি সরকার পণ্যটি আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিয়েছে। এর সুফল ব্যবসায়ীরাও পাচ্ছেন ইতিমধ্যে। কিন্তু বাজারে কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। উল্টো সরবরাহ সংকট দেখিয়ে চিনির দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলোর হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচির প্রভাব পরিবহন সেক্টরে পড়েছে। এ সময় পণ্যবাহী পরিবহনগুলোর ভাড়া বেড়েছে, যা সরাসরি চালসহ অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। সরবরাহ সংকট থাকায় দাম বাড়ছে।
অবশ্য গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, টাউন হল, হাতিরপুল বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন ভিন্নকথা। তারা বলেছেন, চাল সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। কিছু ব্যবসায়ী অবরোধ-হরতালের অজুহাতে দাম বাড়িয়েছেন।
টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৫ ও বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে চালেন দাম। পাইকারি বাজারে ব্রি-২৮ জাতের চাল মানভেদে ২৬০০ থেকে ২৬৫০ ও সরু চাল বস্তাপ্রতি ৩২০০ থেকে ৩৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খুচরা বাজারে ব্রি-২৮ মানভেদে ৫৯ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা কদিন আগেও ৫৫ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মানভেদে সরু চাল ৭০ থেকে ৭৫ এবং নাজিরশাইল মানভেদে ৬৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টাউন হল বাজারে মেসার্স নোয়াখালী বাণিজ্যালয়ের বিক্রয়কর্মী মিলাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, মোকামে প্রতি বস্তা চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ২৯০০ থেকে ৩০০০ টাকায় কিনেছি। কিন্তু এখন তা কিনতে হচ্ছে ৩৩০০ টাকায়।
সরবরাহ সংকটের অজুহাতে চাল ও চিনির দাম বাড়লেও স্বস্তি আছে সবজির বাজারে। শীতকালীন সবজির মৌসুম হওয়ায় সব ধরনের সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। শালগম ৬০-৭০, কাঁচা টমেটো ৭০ থেকে ৮০, পেঁয়াজপাতা কেজি ৯০ থেকে ১০০, মুলা ৪০ থেকে ৫০, লম্বা বেগুন ৬০, সাদা গোল বেগুন ৬০ থেকে ৭০, করলা ৬০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০, পটোল ৬০, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৪৫, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙা ৬০, ধুন্দুল ৫০, ফুলকপি ৪০-৫০ ও বাঁধাকপি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী হানিফ দেশ রূপান্তরকে জানান, বর্তমানে বাজারে সবজির সংকট নেই। শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় সব ধরনের সবজি মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। প্রতি কেজি সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্য সবজির দাম আরও কমে আসবে।
চলতি বছর রেকর্ড দামে প্রতি কেজি আলু ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার আলু আমদানি করলে দাম কিছুটা কমে আসে। তবে অনেক এলাকাতেই পণ্যটির দাম এখনো ৫০ টাকার ওপরে। পেঁয়াজ এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৪০ এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল বাজারে প্রতি কেজি রুই ৩৬০-৫৫০, কাতল ৩৫০-৫৫০, কালবাউশ ৪০০-৬০০, চিংড়ি ৮০০-১৪০০, কাঁচকি ৫০০-৬০০, কই ৩৫০-১০০০, পাবদা ৬০০, শিং ৫০০-৬০০, বেলে ৬০০-১০০০, ট্যাংরা ৭০০-১০০০, কাজলি ৮০০ ও বোয়াল ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজার ঘুরে একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লারে অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় মুরগির মাংস বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। গরুর মাংস ৭৫০-৭৮০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ ও সাদা ডিম ১১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
