আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল তফসিল ঘোষণা করেন। কিন্তু নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারা নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে। শুধু বিএনপি নয়, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৭টি দলই এই তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে। আর জাতীয় পার্টিসহ ১২টি দল তফসিলের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট করেনি। অন্যদিকে তফসিলে সমর্থন জানিয়েছে আওয়ামী লীগসহ ১৫টি রাজনৈতিক দল। তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ইসি তফসিল ঘোষণা করলেও রাজনৈতিক বিরোধের কোনো মীমাংসা হয়নি। বিএনপির সঙ্গে থাকা দলগুলো তফসিলের বিপক্ষে আন্দোলনের গতি বাড়ানোর কথা বলেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু করেছে।
নির্বাচনী তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখন ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের সমর্থন দিচ্ছে নিবন্ধিত আরও ১৪টি দল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের
নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা রয়েছে। তফসিলকে স্বাগত জানানো দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, কিংস পার্টি, নতুন নিবন্ধিত তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)।
অন্যদিকে বিএনপিসহ ১৭টি দল তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যান্য দলের মধ্যে রয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), গণফোরাম ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। এছাড়া বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটও আন্দোলন করছে। এ জোটের শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে। বাম জোটের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলও (বাংলাদেশ জাসদ) প্রত্যাখ্যান করেছে। তফসিল ঘোষণার বিরুদ্ধে দুদিন ধরে ঢাকায় বিক্ষোভ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
তফসিল ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চ। প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেয় বিএনপির সঙ্গে আন্দোলনে থাকা ১২দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। যদিও এসব জোটে থাকা অনেক দলের ইসির নিবন্ধন নেই।
আর বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি তফসিল প্রত্যাখ্যান বা স্বাগত কিছুই জানায়নি। তারা এখনো সমঝোতার আশা করছে। তফসিল বিষয়ে ইসিতে নিবন্ধিত অন্য যেসব রাজনৈতিক দল অবস্থান স্পষ্ট করেনি, সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ কংগ্রেস, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। এই দলগুলোর মধ্যে খেলাফত মজলিসসহ পাঁচটি ইসলামি দলের মোর্চা ‘সমমনা ইসলামি দল’ ইসিকে তফসিল ঘোষণা না করার আহ্বান জানিয়েছিল। তাদের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনের এ আয়োজনকে ‘ভোটরঙ্গ’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করেছে, তা আমরা চরম ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’ অন্যদিকে স্বাগত জানিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ মিছিল করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ভোটের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।
