২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও এক দফা মারাত্মক রক্তক্ষয়ী নৃশংসতার সাক্ষী হলো ফিলিস্তিনিরা। গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো থেকে জানা যায়, গাজার আল-শিফা হাসপাতালে বৃহস্পতিবার দিনের পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে ২২ জন নিহত হয়েছে। গাজার জাবালিয়া আশ্রয়শিবিরে গোলার আঘাতে নিহত হয়েছে ১৮ জন। আর পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থীশিবিরের ইবনে সিনা হাসপাতাল কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করে ইসরায়েলিরা। এদিকে হামাসের হাতে জিম্মিদের উদ্ধারে গতকাল জেরুজালেমে বিক্ষোভ করেছে ভুক্তভোগী ইসরায়েলি পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সংঘাত শুরুর কয়েক দিন পর থেকে গাজার বেসামরিক মানুষকে বলছিল, তারা যেন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উত্তর গাজা ছেড়ে দক্ষিণের দিকে যায়। এরপরও তারা থামেনি। তবে এবার দক্ষিণ গাজা লক্ষ্য করে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে আইডিএফ। রাফাহ ক্রসিং এলাকায় ইসরায়েলের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছে। সেখানকার বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা করেছে তারা। এতে নিহত হয়েছে আরও নয়জন। এ ছাড়া খান ইউনিস এলাকায় একটি বাজারে হামলা চালিয়ে আরও কয়েকজনকে হত্যা করেছে তারা। এসব ঘটনায় হতাহত হয়েছে অনেক। অন্যদিকে পশ্চিম তীরেও দিনভর সংঘর্ষ হয়েছে গতকাল। জেনিন ক্যাম্পে ইসরায়েলি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে বেসামরিক মানুষ। সেখানকার ইবনে সিনা হাসপাতালকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তারা।
গাজাবাসীর জন্য এমন রক্তাক্ত দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদেশ নীতিবিষয়ক প্রধান কূটনীতিক জোসেফ বরেল গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গাজার সংঘাত বন্ধ করতে না পারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা। ফিলিস্তিন ইস্যুকে সমাধান না করে আমরা ফেলে রাখতে পারি না। ইসরায়েলকে অবশ্যই এই সংঘাত বন্ধ করতে হবে।’ এ সময় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, গাজার আল-শিফা হাসপাতালের পাশে একটি স্থাপনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক নারী সেনার লাশ উদ্ধার করেছে তারা। ওই সেনার নাম নোয়া মারকিয়ানো। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনের হামাস। এতে ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। এ ছাড়া কমপক্ষে ২৪০ ইসরায়েলিকে গাজায় ধরে নিয়ে জিম্মি করে। ওই জিম্মিদের মধ্যে মারকিয়ানোও ছিলেন।
ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, হামাসের সন্ত্রাসীরা নোয়া মারকিয়ানোকে হত্যা করেছে। তার মৃত্যুর জন্য সেনাবাহিনী তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। তবে হামাসের দাবি, ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ওই সেনার।
জো বাইডেন গাজায় জাতিগত নিধনের জন্য দায়ী : হামাস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলেছে হামাস। গাজার নিয়ন্ত্রণকারী এই গোষ্ঠীর অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার আল-শিফায় যেভাবে ‘জাতিগত নিধন’ চালিয়ে যাচ্ছে তার জন্য বাইডেন প্রশাসন সরাসরি দায়ী। হাসপাতালটিতে তৃতীয় দিনেও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব। এটি কাঠমোগতভাবে নিধন।
এর আগে এক বিবৃতিতে হামাস বলেছিল, ফিলিস্তিনের বেসামরিক মানুষদের বিরুদ্ধে অপরাধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে ইসরায়েল।
