ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর থেকেই দেশের পুঁজিবাজার অদ্ভুত আচরণ করছে। শক্ত মৌলভিত্তির অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। মাসের পর মাস এসব শেয়ারে বিনিয়োগ আটকে রয়েছে। তবে এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে উৎপাদন বন্ধ, দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারের দাপট চলছে। এসব শেয়ারের দাম কম থাকায় খুব সহজেই কারসাজিও করা যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতা দেখা গেছে ফুওয়াং সিরামিকের মতো দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারেও। কোম্পানিটির লভ্যাংশ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল কোনো সার্কিট ব্রেকার ছিল না। আর এই সুযোগে মাত্র ২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা হলেও গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশের বেশি।
শুধু দরবৃদ্ধিই নয়, লেনদেনেও শীর্ষে ছিল কোম্পানিটি। গতকাল ফুওয়াং সিরামিকের প্রায় ৪৬ কোটি টাকারও বেশি শেয়ারে হাতবদল হয়েছে, যা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনের ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির আটটিই ছিল উৎপাদন বন্ধ থাকা, লোকসানি কিংবা দুর্বল মৌলভিত্তির। গত পাঁচ বছরে ফুওয়াং সিরামিক ২ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
ফুওয়াং সিরামিক শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ২৬ পয়সা। এমন আয়েই বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ আকৃষ্ট হয়েছেন। যেখানে স্কয়ার ফার্মা, রেনেটা, গ্রামীণফোন কিংবা ভালো আয় থাকা অন্য কোনো কোম্পানি তাদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। বাজার-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুর্বল মৌলভিত্তির এসব কোম্পানিতে স্রেফ কারসাজি হচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কারসাজিকারকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কয়েক মাস ধরেই জাঙ্ক শেয়ার নিয়ে উন্মুক্ত কারসাজি হচ্ছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফ্লোর প্রাইসের মধ্যেও গতকাল দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১৩টির দর কমেছে, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬১টির দর। বিপরীতে দর বেড়েছে মাত্র ৩৪টির, যার মধ্যে ফুওয়াং সিরামিক ছাড়াও সেন্ট্রাল ফার্মা, কেপিপিএল, ইটিএল, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ ও কে-অ্যান্ডকিউর মতো কোম্পানি রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই বন্ধ।
