বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বের মানুষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চাপ মূল্যস্ফীতি। সহজ কথায় মূল্যস্ফীতি হলো আপনার ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। বাজারে এখন সব জিনিসের দামই বাড়তি। এই বাড়তি দামের চাপ পড়েছে আমাদের ব্যক্তি-পারিবারিক জীবনে। নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়লেও আমাদের আয় কিন্তু সেভাবে বাড়ছে না। তাই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এ সময়ে কেনাকাটায় আর ব্যক্তিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় হতে হবে আরও সচেতন। চতুর দামের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে জানতে হবে কিছু চালাকি:
মাসিক ব্যয় পরিকল্পনা বা বাজেট
প্রতি মাসে আপনার কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যয় থাকে যেমন বাড়িভাড়া, কিস্তি, গাড়ি থাকলে সেটির খরচ। প্রথমেই বাজেটে এসবের জন্য সঠিক পরিমাণ টাকা বরাদ্দ রাখুন। এরপর যা বাকী থাকে, তাতেই আসল চালাকি। বাকী টাকাগুলো আপনি কিভাবে খরচ করবেন এই ব্যবস্থাপনা করাটা বেশ কঠিন। মূল্যস্ফীতির এই দুর্বিসহ সময়ে খেয়াল রাখতে হবে যেন আমরা অযথা কিছু না কিনি, অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটা না করি। যেমন- এই সময়ে রেস্টুরেন্টে খাওয়া, সিনেমা হলে সিনেমা দেখা, বিলাসী কোনো দ্রব্য যেমন পারফিউম, গহনা, ঘড়ি ইত্যাদি না কেনা, উপহার কেনায় বাড়াবাড়ি খরচ ,ঘুরতে যাওয়া, এসি বাস ইত্যাদি এড়িয়ে চলি।
মুদিবাজার বা নিত্যপণ্যের ব্যবস্থাপনা
খাবারদাবার ও প্রতিদিনের জীবনে লাগে এমন জিনিস কেনা অবশ্যই জরুরি ও প্রয়োজনীয় ব্যয়। দাম যতোই হোক আপনাকেতো বাজারে যেতেই হয়। তবে এখানেও কিছু ব্যয় সংকোচন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে সঠিক বাজেট এবং ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করতে হবে। এজন্য বাজারে যাওয়ার আগে দেখে নিন আগে থেকেই কী আপনার বাসায় আছে, আর কী নেই। কোনটি না হলেই নয়। কেনার সময় যেগুলো বেশিদিন টিকবে এমন পণ্য কিনুন।
একটি করে খুচরো না কিনে নিত্যপণ্য একসঙ্গে একটু বেশি কিনে রাখুন। এতে লস নেই। এখন বিভিন্ন সুপারশপে বাল্ক ক্রয় বা পণ্যের প্যাকেজে ছাড় থাকে। বেশি কিনলে এসব ছাড় পাবেন। আপনার ফ্রিজ, রান্নাঘরের তাকে যদি যথেষ্ট জায়গা থাকে তবে মুদিপণ্য যেমন ডাল, দুধ, ডিম, তেল, আটা, চিনি, সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, টয়লেট ক্লিনার, টিস্যু ইত্যাদি বেশি করে কিনে রাখুন।
অফারে মনোযোগ দিতে পারেন
সুপার শপ ও অনলাইন সুপার শপগুলো প্রায়ই নানা ধরনের অফার দেয়। তখন কাঁচাবাজার থেকে সুপার শপগুলোতে কম দামে পণ্য পাওয়া যায়। খরচ বাঁচাতে সেই অফারগুলো গ্রহণ করতে হবে।
মাঝেমধ্যে সুপার শপগুলো পণ্যের সঙ্গে গিফট কার্ড, স্ক্রাচ কার্ড অফার করে। সেখান থেকেও প্রয়োজনীয় পণ্য ফ্রি পাওয়ার সুযোগ মেলে। তাই এই সুযোগগুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যাবে না।
মেম্বারশিপ কার্ড থাকলে সুপার শপগুলো কিছুটা ডিসকাউন্ট দেয়। বেশির ভাগ সুপারশপে এর পরিমাণ ৫ থেকে ১০ শতাংশ। আবার কোনো কোনো সুপারশপে মেম্বারশিপ কার্ডধারীদের কেনাকাটায় পয়েন্ট যোগ হয়। পরবর্তী সময়ে সেই পয়েন্ট দিয়ে কেনাকাটা করা যায়। তাই আপনি যে সুপারশপে নিয়মিত যাচ্ছেন, সেখানে মেম্বারশিপ গ্রহণ করে এই ডিসকাউন্টের সুযোগ নিন।
খাদ্যতালিকা ব্যবস্থাপনা
সকালে, দুপুরে এবং রাতে কোন দিনে কী খাবেন এর মোটামুটি একটি তালিকা করে রাখতে পারেন। এতে অযথা অতিরিক্ত রান্না এবং অপচয় রোধ করতে পারবেন। ভোজ্য তেল ও চিনির অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে আনুন। খাদ্যতালিকা করা থাকলে যা আপনি সচরাচর খান না এমন পণ্য ক্রয় করার অযথা খরচটিও কমে যাবে।
