আ.লীগের মনোনয়ন নিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ছোট ভাই

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:২৫ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গেছে। শুরু হয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ। এই দৌড়ে থেমে নেই লালমনিরহাট-২ আসনের প্রার্থীরাও। এরই মাঝে আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তার সহোদর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহব্বুজ্জামান আহমেদ।

গত ১৮ তারিখ শনিবার মন্ত্রিপুত্র তার পিতা নুরুজ্জামান আহম্মেদের পক্ষে ও এর পরদিন রবিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মাহাবুবুজ্জামান আহম্মেদ গুলিস্তানের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

একই পরিবার থেকে আপন দুই সহোদর আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় সংসদীয় আসনের ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। এছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে।

আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বর্তমান সাংসদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদ এই আসনে নির্বাচিত হবার পর থেকে দলকে সুসংগঠিত করে এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। এখানে অন্য যারাই মনোনয়ন সংগ্রহ করুক না কেন অবশ্যই নেত্রী নুরুজ্জামান আহম্মেদকেই মনোনয়ন দেবেন বলে আমরা দলের একজন কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি।

তবে সাধারণ ভোটাররা বলেন, একই পরিবারের মাঝে পারিবারিক মনোমালিন্য থাকতে পারে তাই বলে দুই ভাইয়ের মনোনয়ন সংগ্রহ করাটা কোনোভাবেই ঠিক না। যে পরিবার থেকে একাই সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরজামান আহমেদ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন ওই পরিবারের ফাটল কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তবে দলীয় নেতাকর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পারিবারিক মতবিরোধ থাকতেই পারে। বিষয়গুলো নিয়ে পারিবারিকভাবে সমাধান করা যেত। এটি বাইরের কোনো বিষয় নয়। 

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ-আদিতমারী দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সাজ-সাজ রব উঠেছে। আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে বর্তমান এমপি নুরুজ্জামান আহমেদই রয়েছেন আলোচনার মূল কেন্দ্রে। এমপি হবার আগে দুই মেয়াদে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তার আগেও তুষভান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন একাধিকবার। তবে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে এমপি হওয়ার সুযোগ পান কালীগঞ্জে তিনি। এর আগে একটানা জাতীয় পার্টির সাংসদ হিসেবে ৩৫ বছর প্রতিনিধিত্ব করেন প্রয়াত মুজিবুর রহমান। ২০১৪ সালে এসে হাল ধরেন নুরুজ্জামান আহমেদ।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছোট ভাই মাহব্বুজ্জামান আহমেদও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি। সে কারণেই নৌকা মার্কার মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে নৌকা মার্কা দেবেন।

সোমবার পর্যন্ত লালমনিরহাট-২ আসন থেকে যারা মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন তারা হলেন বর্তমান সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, ছোট ভাই মাহব্বুজ্জামান আহমেদ, আদিতমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সিরাজুল হক, আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মৃধা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত