হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ

যুদ্ধবিরতি নিয়ে সব পক্ষের ইতিবাচক বার্তা

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৩, ০২:২৮ এএম

যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া নিয়ে জোরালো বার্তা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গতকাল মঙ্গলবার হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কাছাকাছি পৌঁছেছে তার সংগঠন। এ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও গতকাল ইতিবাচক ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেন। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে জোরালো অবস্থান প্রকাশের দিনেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা কমেনি।

মধ্যপ্রাচ্যে কাতারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে হামাসের। চলতি যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তারাই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। সেই আলোচনার অগ্রগতি জানিয়ে ইসমাইল হানিয়া বলেন, হামাস ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।

গণমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে গুঞ্জন চলছে, নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৫০ জনের মতো জিম্মিকে ছাড়ার বিনিময়ে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যাচ্ছে ইসরায়েল। তিন-পাঁচ দিন গাজায় গোলাবর্ষণ বন্ধ রেখে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেবে ইসরায়েল। এর বিনিময়ে

 হামাস জিম্মিদের একাংশকে ছাড়বে। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধবিরতি নয়। অর্থাৎ বিষয়টি পরিষ্কার, চলতি আলোচনার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শেষ হচ্ছে না। শুধু কয়েক দিন দুপক্ষের লড়াইয়ে বিরতি দেওয়া হবে।

এ নিয়ে গতকাল হামাসের কর্মকর্তা ইজ্জত এল রেশিক বলেন, ‘আলোচনা হচ্ছে স্বল্পকালীন যুদ্ধবিরতি নিয়ে। এর আওতায় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাবে। ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি নারী ও শিশু বন্দিদের বিনিময়ে ইসরায়েলি নারী ও শিশু জিম্মিদের ছাড়া হবে।’ তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিস্তারিত সবকিছু জানাবে কাতার।

এদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি গতকাল জানান, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে কাছাকাছি স্তরে’ রয়েছে এবং বিষয়টি এখন ‘গুরুত্বপূর্ণ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে’। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ইতিবাচক এবং আশাবাদী।’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে ‘অগ্রগতি’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, এখনই বলার মতো মূল্যবান কিছু হয়েছে। এমনকি এ মুহূর্তেও নয়। কিন্তু আমি আশা প্রকাশ করি, একটি সুসংবাদ শিগগিরই দেওয়া যাবে।’

শোনা যাচ্ছে, গতকাল যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে চূড়ান্ত অবস্থান জানানোর কথা। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা, নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা এবং সরকার; মোট তিন দফা বৈঠকের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন নেতানিয়াহু। বৈঠককে সামনে রেখেই তিনি এ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট অজানা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম গাজায় যুদ্ধবিরতির খবর প্রকাশ করে। কিন্তু এ নিয়ে মধ্যস্থতাকারী কিংবা যুদ্ধরত পক্ষগুলোর কারও কাছ থেকে শুরুতে নিশ্চয়তাপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষমেশ গত দুদিনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অগ্রগতি হলো। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আলদেলরাহমান আল-থানি এ নিয়ে প্রথম ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও গত সোমবার বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, একটি চুক্তি হচ্ছে। 

গাজার সর্বশেষ : গাজায় হামাসনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানায়, ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকার নুসেইরাত আশ্রয়শিবিরে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছে। এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১৩ হাজার ৩০০ জনের মতো ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজারের কাছাকাছি রয়েছে শিশু।

আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিজম (সিপিজে) জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে ৫০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৫ জন ফিলিস্তিনি। বাকিদের মধ্যে চারজন ইসরায়েল এবং একজন লেবাননের নাগরিক। 

এদিকে দক্ষিণ গাজা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের লাগাতার গোলাবর্ষণের ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে মিসর। কায়রোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তাদের দেশের সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণ গাজা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের অনবরত হামলার পরিষ্কার উদ্দেশ্য রয়েছে। তেল আবিব সেখানকার বেসামরিক মানুষদের মিসরে ঠেলে দিতে চাইছে। মিসর ফিলিস্তিনিদের জারপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান জানাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত