জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে অনলাইনে শুরু হতে যাচ্ছে স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের (২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের) ক্লাস। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লোকবল সংকটের কারণে নতুন হলগুলো চালু করতে না পারায় অনলাইনে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা। তবে নতুন হল চালু করে শিক্ষার্থীদের সেই হলে আসন বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে দেরিতে অনলাইনে ক্লাস শুরু করার নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা গত ১৮ জুন শুরু হয়ে ২৫ জুন শেষ হয়। এরপর প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ক্লাস শুরু করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ছয়টি হলের মধ্যে সচল না হওয়া চারটি হল চালু করে সশরীরে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু করা হবে। হলগুলো চালু করার লক্ষ্যে গত ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন। এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বরে হলগুলো খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু নতুন হলগুলো চালু করার জন্য পর্যাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। করোনা মহামারীতে বন্ধ থাকার পরের বছরগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার অন্তত চার থেকে ছয় মাস পর ক্লাস শুরু করা হয় এবং প্রতি বছরই আবাসন সংকটের কথা বলে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস শুরু করা হয়। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর শেষ হয়। ওই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস শুরু হয় ২০২২ সালের ৯ মার্চ। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ২০২২ সালের ৩১ জুলাই শুরু হয়ে ৪ আগস্ট শেষ হয়। ওই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি।
এদিকে নতুন হল চালুর কারণ দেখিয়ে দেরিতে অনলাইনে ক্লাস শুরু করায় অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী কনোজ কান্তি রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নানান টালবাহানা করে হল নির্মাণের পরে নির্বোধের মতো এতগুলো সময় অপচয় করার পর নবীন শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তাতে মনে হচ্ছে এই প্রশাসন অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় আছে। কোন মাদকের প্রভাবে প্রশাসনের এই বেহাল অবস্থা তা আমরা জানি না। তবে শিগগিরই এর প্রতিষেধক হিসেবে সর্বোচ্চ কঠোর কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করব।’ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস শুরু করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসের শিক্ষা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, ‘কথা ছিল নতুন হল চালু করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সেখানে আসন বরাদ্দ দিয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু করা হবে। প্রশাসন চাচ্ছে হলগুলোতে বিদ্যমান গণরুম সংস্কৃতি বিলোপ করতে। কিন্তু লোকবল সংকটের কারণে হলগুলো চালু করা এই মুহূর্তে সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই নতুন হলগুলো চালু করে শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস শুরু করা হবে।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
