আমাদের বেশিরভাগ মানুষই জীবনের কোনো এক সময় ঘাড়ের ব্যথায় ভোগেন। যাকে মেডিকেল ভাষায় সারভাইক্যাল স্পাইন বলে। ঘাড়ে দুই ধরনের ব্যথা হয়, ১. লোকাল বা স্থানীয় ব্যথা ও ২. রেফার্ড পেইন বা দূরে ছড়িয়ে যাওয়া ব্যথা।
কারণ : সারভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস, সারভাইক্যাল স্পনডাইলোলিসথেসিস, সারভাইক্যাল রিবস, সারভাইক্যাল ক্যানেল স্টেনোসিস বা স্পাইনাল ক্যানাল সরু হওয়া, সারভাইক্যাল ডিক্স প্রলেপস বা হারনিয়েশন যেখানে হারনিয়াটেড ডিস্ক নার্ভের ওপর চাপ প্রয়োগ করে, মাংসপেশি, হাড়, জোড়া, লিগামেন্ট, ডিস্ক ও স্নায়ুর রোগ বা ইনজুরি, হাড় ও তরুণাস্থির প্রদাহ, অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় ও ভঙ্গুরতা রোগ, হাড় নরম ও বঁাঁকা হওয়া, সারভাইক্যাল অস্টিও-আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি।
লক্ষণ ঘাড় ব্যথা কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। কাঁধ, বাহু, হাত ও আঙুলে অস্বাভাবিক অনুভূতি, অবশ বা দুর্বল হওয়া। ঘাড় স্টিফনেস এবং আস্তে আস্তে বাড়ে। ঘাড়ের মুভমেন্ট ও দাঁড়ানো অবস্থায় কাজ করলে ব্যথা বাড়ে। হাঁচি, কাশি বা সামনে ঝুঁকলে ব্যথা বাড়ে। ব্যথামাথার পেছন থেকে শুরু হয়ে মাথার সামনে আসতে পারে। দুর্বলতা লাগা। প্রস্রাব ও পায়খানার নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়। ব্যথার সঙ্গে জ¦র, ঘাম, শীত শীত ভাব বা শরীর কাঁপানো ।
চিকিৎসা : ঘাড় ব্যথার চিকিৎসা এর কারণগুলোর ওপর নির্ভর করে। ব্যথা ও অন্যান্য উপসর্গ নিরাময় করা ঘাড়ের মুভমেন্ট স্বাভাবিক করা।
কনজারভেটিভ চিকিৎসা : ১. এন্টিইনফ্যামেটরি ওষুধ সেবন,
২. ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা : পাশর্^প্রতিক্রিয়াবিহীন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা কারণগুলোর ওপর নির্ভর করে। এখানে বিভিন্ন ম্যানুয়াল বাম্যানুপুলেশন থেরাপি, থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ এবং এই চিকিৎসাই ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রোমেডিকেল ইকুপমেন্ট।
সার্জিক্যাল চিকিৎসা : ব্যথা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকলে, স্নায়ু সমস্যা দেখা দিলে, বাহু, হাত ও আঙুলে দুর্বলতা এবং অবশ ভাব দেখা দিলে এবং প্রস্রাব বা পায়খানার নিয়ন্ত্রণ না থাকলে দ্রুত সার্জিক্যাল চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
