ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচ মানেই অন্য রকম আবহ। দুই দলের সমর্থক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে এই ম্যাচ নিয়ে কাজ করে বাড়তি উন্মাদনা। গতকাল ব্রাজিলের মারাকানায় রোমাঞ্চকর সেই লড়াইয়ের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল গ্যালারিতে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি ও পুলিশের লাঠিচার্জ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখে চুপ করে থাকতে পারলেন না ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার।
রিও দে জেনেইরোর ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইয়ের ম্যাচটি। মারামারির কারণে প্রায় আধ ঘণ্টা পর ম্যাচ শুরু হয়। পরে ম্যাচ শুরু হলে নিকোলাস ওতামেন্দির দ্বিতীয়ার্ধের একমাত্র গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারায় আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার জয়ের চেয়ে ওই মারামারি নিয়েই যেন আলোচনা হচ্ছে বেশি। চলছে কারণ অনুসন্ধান। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দায় দেওয়া হচ্ছে।
ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের সমর্থকরা। আর্জেন্টিনার জাতীয় সঙ্গীত চলাকালেই দুয়োধ্বনি দিতে শুরু করেন ব্রাজিলের কিছু সমর্থক। একপর্যায়ে দুই পক্ষের দর্শকদের সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশ লাঠিচার্জের আশ্রয়ও নিয়েছিলেন। ব্রাজিলের দাঙ্গা পুলিশের এমন মারমুখী আচরণ ভালোভাবে নেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পুলিশের এমন কাণ্ড দেখে গ্যালারির দিকে ছুটে গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়রা। এক পর্যায়ে মাঠ ছেড়েই চলে যান লিওনেল মেসিসহ বাকিরা।
চোটের কারণে মাঠের বাইরে আছেন ব্রাজিল তারকা নেইমার। ম্যাচটি তাই ঘরে বসেই দেখতে হয়েছিল তাকে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি যেন তাকেও স্পর্শ করেছে। তিনিও হামলাকারীদের ‘লক্ষ্যবস্তু’ হতে পারতেন বলে আশঙ্কা করেছেন।
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, ‘ভালো খেলা ছিল। ক্লাসিক ও বেশ উত্তাপ ছিল। এই ম্যাচ খেললে আমি তো অনেক মার খেতাম। আমার কাছে এটা তালগোল পাকানো এক ম্যাচ মনে হচ্ছিল।’
হাঁটুর অস্ত্রোপচার শেষে এখন সেরে ওঠার পথে আছেন নেইমার।
