টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় বালুবাহী ট্রাকের চালক সুমন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। ট্রাকচালক সুমন মিয়া (২৬) ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। বুধবার (২২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে পুলিশ তাকে বালুবাহী ট্রাকসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানা হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।
জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি থেকে দুটি বালুভর্তি ট্রাক ঘাটাইল কলেজ মোড় এলাকায় আসার পর পুলিশ আটক করে। পরে চালকসহ ওই ট্রাক দুটি থানায় নিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এরপর একটি ট্রাকের চালক সুমন মিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় তিনি পানি খেতে চাইলে পুলিশ তাকে পানি পান করায়। একপর্যায়ে সুমন মিয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
আটক অপর ট্রাকের চালক নিহত সুমন মিয়ার চাচাতো ভাই সুজন মিয়া জানান, তারা ট্রাক নিয়ে কলেজ মোড় আসার পরই পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। একটি গাড়ির কাগজপত্র না থাকায় বাড়িতে লোক পাঠানো হয়। এ সময় ভয়ে সুমন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি পুলিশকে সুমন মিয়ার অসুস্থতার কথা বারবার বলেছেন। তারপরও পুলিশ তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শহিদুল ইসলাম জানান, ওই চালককে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয়।
জামুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে গিয়ে সুজনের মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
ঘাটাইল থানার ওসি লোকমান হোসাইন জানান, বালুভর্তি দুটি ডাম্প ট্রাক আটক করে থানায় আনার পর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার সময় চেয়ারে বসা ট্রাকচালক সুমন মিয়া অসুস্থ বোধ করেন। এরপর তিনি একটি গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট খাওয়ার পর পানি পান করেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি চেয়ার থেকে ঢলে পড়ে যান। দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতিজা হাসান জানান, ডাম্প ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ ছিল। সে অনুযায়ী পুলিশ বালুভর্তি দুটি ট্রাক আটক করে থানায় নেয়। এরপর সেখানে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পুলিশ তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, নিহত সুমন মিয়া আগে থেকে অসুস্থ ছিলেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
