চীনে আবারও রহস্যজনক নিউমোনিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাসংক্রান্ত এই রোগ নিয়ে তথ্য সরবরাহ করতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। চীনের উত্তরাঞ্চলে এই রোগ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। তবে চীনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই ধরনের সংক্রমণকে কভিডন্ড১৯ন্ডএর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মনে করছে। বিশ্বব্যাপী মহামারী সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস ছড়ানোর আগেও তা রহস্যজনক নিউমোনিয়া হিসেবে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছিল।
রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, শূন্য কভিড নিষেধাজ্ঞা তোলার পর প্রথবারের মতো শীত মৌসুম প্রত্যক্ষ করছে চীন। দেশটিতে শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাসঘটিত রোগের মোকাবিলার ক্ষেত্রে যেভাবে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্ম নেওয়ার কথা তার তুলনায় কম অর্জন করে থাকতে পারে এবং এর ফলে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশ্বে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে করোনাভাইরাস নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ব্যাপক মাত্রায় শ্বাসযন্ত্রের রোগী বেড়েছিল।
গত ১৩ নভেম্বর চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন শ্বাসযন্ত্রের রোগের পরিমাণ বাড়ার কথা স্বীকার করে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব সংক্রমণ ইনফ্লুয়েঞ্জার আক্রমণ ও নিউমোনিয়াজনিত সমস্যার কথা জানায়। এরপর গত বুধবার ডাব্লিউএইচও এ বিষয়ে বাড়তি তথ্য চায়। সংস্থাটি বলে, চীনের উত্তরাঞ্চলে নিউমোানিয়ার লক্ষণযুক্ত রোগীর পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু এর সংক্রমণ কোন প্যাথোজেন দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
চীনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের উপপরিচালক ওয়াং কুয়ানই বলেন, অনেকগুলো প্যাথোজেনের সমন্বিত সক্রিয়তার কারণে সংক্রমণের সামগ্রিক সংখ্যার ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি সামলাতে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, শূন্য কভিডসংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি মানুষের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে। এ কারণে শীতকালে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে।
