চট্টগ্রামে নৌকা পেতে ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৫৯ এএম

নৌকার মনোনয়ন পেলেই নিশ্চিত সংসদ সদস্য বিগত দুটি সংসদ নির্বাচনের ফলাফল থেকে এমন ধারণাই চট্টগ্রামের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে। তাই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার ১৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ চলছে।

বিভিন্ন আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ গত বৃহস্পতিবার শুরু করেছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। শনিবার একসঙ্গে সারা দেশের দলীয় মনোনায়নপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই রয়েছে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি)। একটি আসনে আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও অন্যটিতে জাতীয় পার্টির এমপি রয়েছেন। তবে এবার সবকটি আসনেই রেকর্ডসংখ্যক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

বিভিন্ন আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ১৬ আসন থেকে নৌকার  ২১৭ জন ফরম নিলেও অর্ধশতাধিক নেতা রয়েছেন যারা মনোনয়ন পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের আগে থেকেই তারা ঢাকায় থেকে দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগ এমপিদের মধ্যে দলীয় এবং স্থানীয়ভাবে শক্ত অবস্থানের কারণে কয়েকজনের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে ধরা হচ্ছে। এর বাইরে বর্তমান এমপিদের বেশ কয়েকজন আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না এমনটাই ইতিমধ্যে চাউর হয়েছে। তবে হাল না ছেড়ে তারাও মনোনয়ন ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এসব আসনে বিকল্প হিসেবে একাধিক নেতা মনোনয়ন পাওয়ার জোর তদবির চালাচ্ছেন।

দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীদের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর চারটি আসনেই ৮৭ জন নেতাকর্মী মনোনয়নপ্রত্যাশীর খাতায় নাম লিখিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে ২৭, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে ১৫, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) আসনে ১৯ ও চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা) আসনে ২৭ জন নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৯, ১০ ও ১১ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। যে কারণে ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এ তিনটি আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যরা। তারা হলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (চট্টগ্রাম-৯), অল্প কিছুদিন আগে উপনির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়া মহিউদ্দিন বাচ্চু (চট্টগ্রাম-১০) ও গত তিনবারের এমপি এমএ লতিফ (চট্টগ্রাম-১১)।

দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, যেকোনো একটি আসনে আ জ ম নাছিরের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান তিন এমপির মধ্যে কাকে সরিয়ে তাকে নৌকায় বসানো হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আ জ ম নাছির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের জন্য আমি কী করেছি বা করছি তা নতুন করে কাউকে বলার অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না। চট্টগ্রাম-৯ আসন আমার নিজস্ব এলাকা। এটিসহ তিনটি আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছি। বাকিটা দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে দলীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নেব।’

চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের জন্য রেকর্ডসংখ্যক দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা হলেও অনেকেই নিজেদের প্রচারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ফরম কিনেছেন। অনেকে আবার এটাকে পুঁজি করে ভবিষ্যতে দলীয় পদ-পদবি কিংবা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পদ পাওয়ার আশায় ‘বিনিয়োগ’ করছেন এমনটিই অভিমত দলীয় নেতাকর্মীদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত