রাজস্থানে জিতলেই কংগ্রেসের ইতিহাস

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৫৬ এএম

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে গতকাল শনিবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে এই রাজ্যের নির্বাচনকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজ্যটিতে গত ৩০ বছর ধরে পাঁচ বছর অন্তর অন্তর ক্ষমতার পালাবাদল দেখছে মানুষ। এবারের নির্বাচনে দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রথা ভেঙে ক্ষমতা ধরে রাখবে কংগ্রেস নাকি নিয়ম মেনে ক্ষমতায় ফিরবে বিজেপি। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফলাফল ঘোষণা হবে।  রাজস্থান রাজ্যের ২০০ আসনের মধ্যে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ১৯৯টিতে। ১৯৯৩ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এরপর ১৯৯৮ সালে ক্ষমতা দখল করে কংগ্রেস। এভাবে প্রতি পাঁচ বছর সেই ধারা অব্যাহত থেকেছে। রাজ্যটিতে ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে নেমেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির অঘোষিত দ্বিতীয় প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনকি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদের পরিচিত মুখ যোগী আদিত্যনাথকেও আনা হয়েছিল প্রচারের যুদ্ধে। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অশোক গেহলতের বিরুদ্ধে তারা একসুরে মুসলিম তোষণের অভিযোগ তুলেছেন।

উল্টোদিকে কংগ্রেসের তরফে মাঠে নেমেছিলেন রাহুল গান্ধী। প্রচারে নেমে তিনিও নরেন্দ্র মোদির সরকারকে নানা কায়দায় আক্রমণ করেছেন। রাজ্যটির তরুণ নেতা শচিন পাইলটের সঙ্গে অশোক গেহলতের দ্বন্দ্ব মেটাতে দুজনকে একমঞ্চে দাঁড় করিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। গতকাল ভোটের দিনেও রাহুল এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘রাজস্থান বিনামূল্যে চিকিৎসা বেছে নেবে। রাজস্থান বেছে নেবে সস্তা গ্যাস সিলিন্ডার। রাজস্থান বেছে নেবে সুদমুক্ত কৃষিঋণ। রাজস্থান বেছে নেবে ইংরেজি শিক্ষা।’ গেহলত নিজের শাসনামলের সুশাসন আর জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছেন। কংগ্রেস শিবিরের আশা, আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজস্থানের মানুষ ৩০ বছরের প্রথা ভেঙে কংগ্রেসকে বেছে নেবে।

বিজেপি এবার রাজস্থানের ভোটে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাউকেই আগের হিসেবে তুলে ধরেনি। প্রচারে মোদি এবং অমিত শাহই প্রধান ভূমিকা নিয়েছেন। তবে রাজ্যটিতে বিজেপির অন্যতম মুখ হয়ে রয়েছেন বিজেপির বসুন্ধরা রাজে। রাজ্যে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি শক্ত। তিনি আগেও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজেপি নতুন কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসাতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত