বিচারকাজে হঠাৎ গতি আতঙ্কে চট্টগ্রাম বিএনপি

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৮ এএম

চট্টগ্রামে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, নগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীকে সাজা দিতে দ্রুতগতিতে পুরনো মামলার বিচারকাজ চলছে। ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয়ে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে তাদের নেতাকর্মীদের সাজা দিতে রাষ্ট্রপক্ষ এ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. ইদ্রিস আলী জানান, গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে গত রবিবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৫৯টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১ হাজার ২৪ জন। এর মধ্যে নগরের বিভিন্ন থানায় হওয়া ২২টি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৪৮৪ জন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উত্তর জেলা এলাকার থানায় হওয়া ৩৭ মামলায় ৫৪০ জন বিএনপি এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুর রশীদ বলেন, ‘২০১৩ সালে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে হওয়া কিছু মামলা ট্রায়ালে আছে। তারা তো আতঙ্কিত হবেই। গুহায় বসে মেসেজ দিয়ে রেল পোড়াচ্ছে, গাড়ি পোড়াচ্ছে। তারা কি রাস্তায় আছে? আন্দোলনের নামে দেশ ও জনগণের সম্পদ নষ্ট করছে তারা।’

তবে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বিচারকাজ দ্রুতগতিতে চলার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে। কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আইনবহির্ভূত কোনো কার্যক্রম চলছে না।’

চট্টগ্রাম আদালতে বিএনপির প্যানেল আইনজীবী ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া পুরনো একাধিক মামলার বিচারকাজ চলছে দ্রুতগতিতে। তবে আমরা সোচ্চার আছি। আমাদের প্যানেলে ২৫-৩০ জন আইনজীবী আছেন। বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে রাজনৈতিক, যাতে বিএনপির বিভিন্ন পদের দায়িত্বশীল যারা নেতাকর্মী আছেন, তারা যেন রাজনৈতিক হয়রানি, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার না হন।’

আদালত সূত্র জানায়, জননিরাপত্তা বিঘœকারী, বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন আইনে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুরনো মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। কিছু মামলায় ইতিমধ্যে আদালতে অভিযোগ গঠন শেষে বিচার শুরু হয়েছে। কিছু মামলা চার্জ শুনানির অপেক্ষায় আছে। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হওয়া একটি মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের ৪৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চলতি বছর ১৭ আগস্ট বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন সপ্তম অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শামসুল আরেফিন। এরপর পাঁচ দিনের মাথায় একই থানার আরও একটি মামলার চার্জ গঠনের শুনানি ছিল চট্টগ্রামের অন্য একটি আদালতে।

সূত্রটি জানায়, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করসহ অনেক সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। তবে বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কয়টি মামলার চার্জশিট আদালতে জমা হয়েছে কিংবা কয়টি ট্রায়ালে আছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট পাবলিক প্রসিকিউটর। বিএনপির দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে ৫ হাজার ৬৪২টি। এসব মামলায় আসামি ১ লাখ ৪০ হাজার ১৪ জন। চট্টগ্রাম জেলায় ১ হাজার ৯৪৩টি মামলায় আসামি ৩৯ হাজার ৪৫৫ জন। মহানগরের বিভিন্ন থানায় ৩ হাজার ৬৯৯টি মামলায় আসামি করা হয় ১ লাখ ৫৫৯ জনকে।

সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাজানো ও ‘গায়েবি’ মামলায় আসামি করছে বলে মন্তব্য করে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৯০টি গায়েবি মামলা হয়েছে। এক ডজন মামলা ট্রায়ালে আছে।’

নাশকতার অভিযোগে হওয়া ১৩৭টি মামলার আসামি নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৫৮টি বিচারাধীন। বিচারকাজ চলছে দ্রুত। আগামী এক-দুই মাসের কিছু মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘ইতিমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন আদালত বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের ৫৫০ নেতাকর্মীর সাজা ঘোষণা করেছে। সরকারের নির্দেশে রাত-বিরাতেও আদালতের কার্যক্রম চলছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের সাজা দিতে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বিচারকাজ। এজন্য চট্টগ্রামের বিএনপির অনেক নেতাকর্মী সাজার আতঙ্কে ভুগছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত