তেল খননের সময় বর্জ্য গ্যাস পোড়ানো বা গ্যাস ফ্লারিংয়ের সময় নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক তদন্তে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যেপ্রাচ্যে এবং উপসাগর জুড়ে ফ্লারিং অর্থাৎ খনি থেকে তেল বের করার সময় যেসব বর্জ্য গ্যাস পোড়ানো হয় তা দিয়ে প্রচুর বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়।
বিবিসির গবেষণায় উঠে আসে যে, গ্যাস ফ্লারিং এর কারণে দূষণ শত শত মাইল ছড়িয়ে পড়ছে এবং সমগ্র আরব অঞ্চল জুড়ে বায়ুর গুণমান খারাপ করছে। এমনকি কপ২৮ আয়োজনকারী দেশ আরব আমিরাতেও এ সমস্যা রয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন কপ২৮ আয়োজন উপলক্ষে এ বিষয়টি নজরে এসেছে।
যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০ বছর আগে ফ্লারিং নিষিদ্ধ করেছে। তবে বিবিসি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রগুলোতে দেখা যায় যে এ অঞ্চলে এখনও ফ্লারিং অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে আরব আমিরাতের বাসিন্দা এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষ।
বিবিসি আরবির বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বিষাক্ত গ্যাস এখন শত শত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
গবেষণার অংশ হিসাবে ইরাক, ইরান এবং কুয়েতের গ্যাস কূপগুলোর দূষণও বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। তবে জড়িত সমস্ত দেশ হয় মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
অন্যদিকে তেল কোম্পানিগুলো বলছে, তারা বিপি এবং সেল সংযুক্ত করার চেষ্টা করছে এবং গ্যাস ফ্লারিং নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।
দূষণকারী পদার্থের মধ্যে রয়েছে পিএম২.৫, ওজোন, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, এবং বেনজো পাইরিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এসব পদার্থের সাথে উচ্চ মাত্রায় বা ক্রমাগত এক্সপোজার হলে স্ট্রোক, ক্যান্সার, হাঁপানি এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এ ছাড়া ফ্লারিং বিশ্বে উষ্ণতা সৃষ্টিকারী গ্রীনহাউস গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মিথেনের একটি প্রধান উৎস।
