চট্টগ্রামে নৌকাকে হারাতে আ.লীগের একাংশ একাট্টা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৯ এএম

হঠাৎ করেই পাল্টে যাচ্ছে সেøাগানের ভাষা। এত দিন বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশে নৌকার সেøাগানে মুখর থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে ‘নৌকার প্রার্থী’ ঠেকাতে একাট্টা হচ্ছে। নৌকার মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাসকে মøান করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

চট্টগ্রাম মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ আসন চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-বন্দর)। এই আসন থেকে টানা চতুর্থবারের মতো নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা এমএ লতিফ। দলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকলেও ২০০৮ সালে চিটাগাং চেম্বার সভাপতি থাকাবস্থায় নৌকার মনোনয়ন পেয়ে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। ওই আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। এরপর বিভিন্ন সময় খোদ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। নানা ইস্যুতে তার বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিংও হয়। তারপরও ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নৌকা তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। এবারও ২৭ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে সবাইকে ডিঙিয়ে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন লতিফ। কিন্তু এবার তাকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামছেন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। আর তার পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নামছেন নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের প্রভাবশালী নেতারা। গত সোমবার সন্ধ্যায় জিয়াউল হক সুমনের এক মতবিনিময় সভায় ওই আসনের ১০ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এমএ লতিফের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নামার ঘোষণা দেন। ওই সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে তিনবারের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী মনোনয়ন পাননি। এবার নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে। সেখানে নৌকাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন সামশুল হক চৌধুরী। সোমবার তার সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগপন্থি চেয়ারম্যানরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কোণঠাসা অবস্থায় থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরাট একটি অংশ রয়েছে তার পক্ষে। ওই আসনে নৌকা পেয়েছেন দলের সভাপতিম-লীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেল।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে এবার নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব। ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণও তার হাতে। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তৈয়বের হয়ে নৌকার বিরুদ্ধে মাঠে থাকবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এমএ মোতালেব। জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই আসনটিতে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছাড়াই ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পান আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী নেতৃত্বের অবস্থান ছিল সব সময় তার বিরুদ্ধে। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ মোতালেবের পক্ষে একাট্টা হচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ইতিমধ্যে নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুই আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান ও আবদুল্লাহ কবির লিটন। ওই আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া তিনবারের এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার কর্মী-সমর্থকরা।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে ভোটকেন্দ্রমুখী করা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলে নির্বাচনের একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দলীয় লোকদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত দলীয় কোনো বাধা-নিষেধ নেই।’

আওয়ামী লীগের অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এতে দলের নেতাকর্মীরাও নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে দলের হাইকমান্ড সর্বশেষ কী নির্দেশনা দেয় তার ওপর। হাইকমান্ডের নির্দেশনা মেনে সব সময়ই তারা বদ্ধ পরিকর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত