গতকাল মঙ্গলবার হামাস ও ইসরায়েল একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছে। হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড উত্তর গাজায় গুলি ছোড়ার অভিযোগ এনেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ইসরায়েলও বলছে, হামাসের হামলায় সেনারা আহত হয়েছে। আবার পশ্চিম তীরে গতকাল ইসরায়েলের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার উত্তর গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সংগঠনটির সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেড বিস্তারিত বর্ণনা না দিয়ে এই অভিযোগ তুলেছে। গতকাল নতুন ঐকমত্য অনুযায়ী দুই দিনের যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন ছিল।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে আল-কাসাম ব্রিগেড বলেছে, শত্রুপক্ষ ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি মানবে, ততক্ষণ তারাও মেনে চলবে। এ সময় তারা মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশ্যে বলে, তারা যেন স্থল ও আকাশে
যুদ্ধবিরতির শর্ত মানতে ইসরায়েলকে চাপ দেয়।
এদিকে ইসরায়েল বলেছে, উত্তর গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থানের কাছে দুটি জায়গায় তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে, যা অভিযানে বিরতি দেওয়ার শর্তকে লঙ্ঘন করে। অনেক জায়গায় সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এর জবাবে ইসরায়েলি সেনারাও গুলি ছুড়ে জবাব দেয়। এতে বেশ কয়েকজন সেনা হালকা আহত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গতকাল ইসরায়েলের ট্যাংক উত্তর গাজা শহরের শেইখ রাদওয়ান এলাকায় তিনবার গোলা নিক্ষেপ করে। কিছু ফিলিস্তিনি বাড়ি ফিরতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। অবশ্য ইসরায়েল বলছে, ‘সন্ত্রাসীদের সতর্ক করতেই গুলি ছোড়া হয়েছে।’
গত সোমবার চার দিনের যুদ্ধবিরতির শেষ দিন নতুন করে সমঝোতা হয়, দুই দিনে ইসরায়েল ৩০ জন করে ৬০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছাড়বে। অন্যদিকে হামাস দুই দিনে ১০ জন করে ২০ বন্দিকে মুক্তি দেবে। প্রথম দফায় ৫০ জন ইসরায়েলির মুক্তির বিনিময়ে ১৫০ ফিলিস্তিনিকে ছাড়ে ইসরায়েল। এর বাইরেও হামাস বেশ কিছু বিদেশি জিম্মিকে ছেড়ে দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হলেও দুই পক্ষের দিক থেকে বড় কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে কিছু গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনী সিআইএর প্রধান, ইসরায়েলি গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদের প্রধান গতকাল কাতারের রাজধানী দোহায় গেছেন। মিসরের গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধানের উপস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষ নিয়ে তারা বৈঠক করছেন। তবে এ নিয়ে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলছে, যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর জন্যই কথা হতে পারে।
এদিকে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন বেইতুনিয়া শহরের কাছে একটি এলাকায় এবং আরেকজন রামাল্লা শহরের কাছে একটি জায়গায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মুখে পড়েন। গত ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় ২০০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।
