লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুতেও অনুশোচনা ছিল না কিসিঞ্জারের

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ১১:১৫ পিএম

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি কখনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। বুধবার (২৯ নভেম্বর) মার্কিন প্রগতিশীল সংবাদ ওয়েবসাইট হাফপোস্টের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আট বছর মার্কিন সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিসিঞ্জার। এ সময় তিনি যেসব হন্তারক শাসকদের সমর্থন করেছিলেন, তারা যেসব সংঘাত পরিচালনা করেছিল, তাতে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া অসংখ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অপকর্মের জন্য তিনি কখনো অনুশোচনা করেননি। অপকর্মের জন্য তাকে সত্যিকার অর্থে কোনো মূল্য চোকাতে হয়নি।

উল্টো সারা জীবন সমালোচকদের প্রতি উপহাসমূলক সুর বজায় রেখেছিলেন কিসিঞ্জার। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি ওয়াশিংটনের অভিজাত রাজনৈতিক সমাজের সদস্য ছিলেন।

হাফপোস্টের প্রতিবেদনে কিসিঞ্জারকে‘আমেরিকার সবচেয়ে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও জেরাল্ড ফোর্ডের প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছিলেন কিসিঞ্জার।

এ অবস্থান তাকে ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে স্নায়ুযুদ্ধ পরিচালনার সুযোগ দেয়। কিন্তু তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসহ দেশটির তৎকালীন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সাফল্যের বিষয় অগ্রাধিকার দেন।

তার সময়ে কম্বোডিয়ায় চার বছর ধরে গোপন বোমা হামলা হয়। এ হামলায় অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কম্বোডিয়ার কোনো যুদ্ধ ছিল না। আবার পররাষ্ট্রনীতির দায়িত্বে থাকাকালে কিসিঞ্জার পাকিস্তানের কাছে অবৈধ অস্ত্র বিক্রির নির্দেশ দেন। ১৯৭১ সালে বাঙালিদের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তান।

১৯৭৩ সালে চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থানে সমর্থন দিয়েছিলেন কিসিঞ্জার। এই অভ্যুত্থানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সমাজতান্ত্রিক সরকার উৎখাত হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে পূর্ব তিমুরে ইন্দোনেশীয় আগ্রাসনে সমর্থন ছিল তার। সমর্থন ছিল আর্জেন্টিনার সামরিক একনায়কত্বেও। অন্যদিকে ফোর্ড প্রশাসনের সময় কিসিঞ্জারের নীতি আফ্রিকা, বিশেষ করে অ্যাঙ্গোলায় গৃহযুদ্ধে ইন্ধন জুগিয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত