জেরুজালেমের অদূরে বাসস্ট্যান্ডে দুই বন্দুকধারী গুলি চালিয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এরপর দুই হামলাকারীকেও হত্যা করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার হামাস ও ইসরায়েল সম্মত হয়, গাজায় চলতি যুদ্ধবিরতি আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ আজ শুক্রবারও গাজায় যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকছে। আবার নতুন করে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, শুক্রবারের পর যুদ্ধবিরতি আরও দুদিন বাড়ানো হতে পারে।
ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, দুই বন্দুকধারীর হামলায় জেরুজালেমে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়। এর মধ্যে ৮ জন ব্যাপকভাবে আহত, যাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলাকারীরা একটি গাড়িতে চেপে ঘটনাস্থলে আসে। তাদের সঙ্গে এমআই১৬ এবং একটি পিস্তল ছিল। দাঁড়িয়ে থাকা বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালায় তারা।
ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী পূর্ব জেরুজালেমের সুর বাহের এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল যেখানে ওই দুই ভাইয়ের বাড়ি। ইসরায়েলি সেনারা তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেয় এবং পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বলা হয়, হামলাকারী দুজনের নাম মুরাদ নিমর যার বয়স ৩৮ এবং আরেকজন ৩০ বছর বয়সী ইব্রাহিম নিমর। তারা পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী দুজন সহোদর। ঘটনার পর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস দাবি করেছে, ওই দুই ভাই তাদের সংগঠনের সদস্য। এদিকে হামাস একটি বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি দখলদাররা যেসব কাজ করে তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে হামলা হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম আরও জানায়, নিহত তিনজনের মধ্যে একজন ২৪ বছর বয়সী নারী। আরেকজন ৭৩ বছর বয়সী পুরুষ। আরেকজনের বয়স জানা যায়নি।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তার সরকার দেশের নাগরিকদের অস্ত্র সরবরাহ বাড়াবে। সন্ত্রাসবাদ রুখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় আজ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো হয়েছে। এই সমঝোতার আওতায় ১০ ইসরায়েলির বিনিময়ে ৩০ ফিলিস্তিনি মুক্তি পাবে। এ সংক্রান্ত অগ্রগতির পর গতকাল আবারও শোনা যায়, আগামীকাল শনিবার থেকে পরদিন রবিবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর আলোচনা চলছে। নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনায় আরও বন্দিমুক্তির পাশাপাশি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার হবে। মিসরের গণমাধ্যম এসব তথ্য জানায়।
