জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এর প্রার্থী হয়ে পাবনা-২ আসনে ভোটের মাঠে কণ্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। জনপ্রিয় এই সংগীত তারকার নির্বাচন করার হঠাৎ ঘোষণায় বিস্মিত সুজানগর আমিনপুরের মানুষ। তবে নির্বাচনী এলাকায় খুব বেশী যাতায়াত না থাকলেও সর্ব সাধারণের সমর্থন পাওয়ার আশা ডলির।
সম্প্রতি পাবনায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া ৩০ নভেম্বর ডিসি অফিসে হাজির হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলও করেন তিনি।
তিনি জানান, নিজ এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করতেই পাবনা-২ আসনে নির্বাচন করতে চান তিনি। ভোটের লড়াইয়ে নামতে এরই মাঝে মনোনয়ন ফরম গ্রহণ ও সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন ডলি। শীঘ্রই প্রচারণায় নামবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ডলি সায়ন্তিনী বলেন, পাবনার সাথে একেবারেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এমনটি নয়, পাবনার আরিফপুরে আমার বাবা শুয়ে (কবর) আছেন। চাচারা এখনো পাবনাতেই থাকেন। সে সুবাদে কিছুটা যোগাযোগ ছিল। তবে নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ এর আগে কোনোভাবেই হয়নি। এবার এসেছে। এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবেসে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে যদি সেই সুযোগ দেন, তবে তাদের জন্য আমি অনেক কিছু করতে চাই। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সুজানগরকে অনেক কিছু দিতে চাই।
রঙ চটা জিন্সের প্যান্ট, বিষম পিরিতি কিংবা নিতাইগঞ্জের যাইয়ের মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী ডলি সায়ন্তনী। পাবনার মেয়ে ডলিকে তারকা শিল্পী হিসেবে চিনলেও নিজ এলাকায় সাধারণের সাথে খুব বেশী যোগাযোগ নেই তার।
গত সোমবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যোগ দিয়েই পাবনা-২ ( সুজানগর – আমিনপুর) আসনে ডলির ভোট করার ঘোষণায় সাধারণের মাঝে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। স্বাগত জানানোর পাশাপাশি অনেকেই করছেন বিরুপ মন্তব্যও।
এ ব্যাপারে সুজানগরের কলেজ শিক্ষার্থী অন্তু বলেন, উনার গান অনেক শুনেছি। উনি ভালো গেয়ে থাকেন। কিন্তু উনাকে কখনো সুজানগরে দেখিনি। এই এলাকায় তার বাবা অথবা দাদার বাড়ি সেটিও জানতাম না। গানের স্টেজ আর ভোটের মাঠ এক নয়। তাছাড়া এখানে উনার কারো সাথে সংযোগ ছিলো না বা নেই। এর ফলে কোনো সমর্থকও গড়ে ওঠেনি। এক্ষেত্রে নির্বাচনে খুব ভালো অবস্থান উনি গড়তে পারবেন বলে আমার মনে হয় না।
ব্যবসায়ী সাইদুল হাসান বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনী শর্ত মেনে যে কেউই নির্বাচন করতে পারেন। এটা অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু নয়। তবে রাজনৈতিক দক্ষতা ছাড়া রাজনীতির মাঠ বা ভোটের মাঠে টেকা মুশকিল। সেদিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। এর বাইরেও আমরা ডলি সায়ন্তিনীকে শুভেচ্ছা জানাই। তবে নিজেকেই নির্বাচনী মাঠ তৈরি করতে হবে এবং মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবার মধ্য দিয়ে বিজয়ের দিকে এগোতে হবে। তাছাড়া এ ঘোরাফেরা মূল্যহীন।
এদিকে তারকা এই কন্ঠশিল্পীর সাথে পরিচয় না থাকলেও ভোটের মাঠে তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বর্তমান এমপি ও আওয়ামীলীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আহমেদ ফিরোজ কবির বলেন, বিএনপি নির্বাচনে নেই। ভোটের মাঠে এবার ভোটার আনা বড় লক্ষ্য। সেখানে এ ধরণের জনপ্রিয় ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিলে সেটি সহজ হয়। এক্ষেত্রে তাকে স্বাগত জানাই। তবে আমার বিজয়ের ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।
