যুদ্ধবিরতির পর এক দিনে ১০৯ ফিলিস্তিনিকে হত্যা

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:১৩ এএম

গাজায় উপত্যকায় আক্রমণ চালিয়ে এক দিনেই শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরায়েল। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর জল, স্থল ও আকাশপথে আক্রমণ চালায় ইসরায়েলি বাহিনী; এতে ১০৯ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয় কয়েকশ। গাজার স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসন লক্ষ্য করে পুরনো কায়দায় শুরু হয়েছে ইসরায়েলি নৃশংসতা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা যুদ্ধবিরতির সময় বৃদ্ধি করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। 

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল জানায়, ইসরায়েল সকাল থেকেই হামলা শুরু করে। এতে ১০৯ জনের মতো নিহত হয় এবং আহত হয় কয়েকশ। গত ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ১৫ হাজারের বেশি।

ইসরায়েলি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, তারা গাজায় উত্তর ও দক্ষিণে একযোগে আক্রমণ চালিয়েছে। কমপক্ষে ২০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজায় বেশ কিছু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরার আহ্বান জানিয়ে লিফলেট ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

সাত দিনের যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষের হাতে বন্দি থাকা মানুষদের একাংশের মুক্তির পরই গতকাল সকাল থেকে শুরু হয় ইসরায়েলির গোলাবর্ষণ। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র বলেছে, তারা হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো নিয়ে কাতার, মিসর ও ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানায়, এ নিয়ে পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এদিকে গাজায় গতকাল ইসরায়েলি হামলায় তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর সাংবাদিক মোনতাসের আল-সাওয়াফ নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলের চারজন এবং লেবাননের তিনজন।

গাজার ৬০% বাড়িঘর ধ্বংস

গাজায় ইসরায়েলের দেড় মাসব্যাপী হামলায় ৬০ শতাংশ বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন গতকাল এই দাবি করেছে। অধিকাংশ উপত্যকার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার গৃহহীন অবস্থায় দিন পার করছে। ধ্বংস বাড়িঘরের বেশিরভাগ উত্তর গাজায়। সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরের পাশাপাশি প্রায় আড়াই লাখ বাড়িঘর আংশিক ধ্বংস হয়েছে।

মানুষের বসতবাড়ি ছাড়াও হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। দুই লাখ ৭৮ হাজার আবাসিক ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। ৩১১টির মতো শিক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩৫টি চিকিৎসাকেন্দ্রের ২৬টিই বন্ধ যার মধ্যে বেশিরভাগের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত