মনোনয়ন দাখিলের আগে রাতে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চনকে থানায় ২ ঘণ্টা আটক রাখার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার রাত ১২টার দিকে তাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে থানা থেকে আবারও বাড়িতে পৌঁছে দেয় বলে জানা গেছে।
বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন দিনাজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে ওই আসনে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজকে মনোনয়নপত্র জমা না দিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন তিনি।
জানা যায়, বুধবার রাত ১২টার দিকে বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চনকে বড়বন্দরের বাড়ি থেকে ডেকে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার কয়েকজন সমর্থক থানায় যান। তারাই বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এটি সামান্য বিষয় বলে জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাকিল আহমেদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে তার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যা বলেন তা করেন। এবারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো বাধা রাখা হয়নি। আমাকে আটক করা হয়েছিল কি না, এটি আপনারাই ভালো বলতে পারবেন। আপনারা সব খোঁজখবর রাখেন। আমি নির্বাচিত হলে এই প্রশ্নের উত্তর আমি অবশ্যই দেব।’
এদিকে ওই আসনের আরেক প্রার্থী রাশেদ পারভেজ বলেন, ‘আমাকেও সাবধানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য ফোন এসেছিল এবং বলা হয়েছিল জেলার সাধুরঘাটে আমাকে নিয়ে একটি মিটিং চলছে। যারা আমাদের প্রতিপক্ষ বানিয়েছে তারা মনে করছে যে দিনাজপুরে শুধু তাদেরই লোকজন আছে। কিন্তু আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই জনবল আছে।’
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি ফরিদ হোসেন বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা আছে কি না তা জানতে এবং কুশলবিনিময় করতে তাকে থানায় ডাকা হয়েছিল। তার সঙ্গে আগে আমার পরিচয় ছিল না। থানায় তিনি ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট ছিলেন। মনোনয়নপত্র জমা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে আমাদের জানাতে বলেছি। পরের দিন অবশ্য তিনি আর কোনো যোগাযোগ করেননি। ২ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার বিষয়টি সঠিক নয়।’
ওসি আরও বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয় নিয়ে কোনো সমস্যা রয়েছে কি না এ ব্যাপারে আমরা আরেক প্রার্থী রাশেদ পারভেজের সঙ্গেও কথা বলেছিলাম। তারও কোনো সমস্যা নাই বলে জানিয়েছিলেন তিনি।’
