জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত রওশনপন্থি নেতা বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গার মনোনয়নপত্র মামলা-সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতির কারণে স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। পরে প্রয়োজনীয় কাগজ সংযুক্ত করায় বিকেলে বৈধ ঘোষণা করা হয়। গতকাল শনিবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি আসনের যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে জিএম কাদের-রাঙ্গাসহ ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। সেই সঙ্গে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও তিনজনের স্থগিত করা হয়েছে। রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান।
এ ছাড়া ময়মনসিংহের ছয়টি আসনে ১১ প্রার্থীর, গোপালগঞ্জ-১ আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নড়াইল-১ আসনে এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও দুজনের মনোনয়ন আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি করপোরেশন) আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দাখিল করা ১২ জনের মধ্যে দুজনের স্থগিত ও একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মামলা-সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সবুজ মিয়া ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির বখতিয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয় এবং ভোটার তালিকায় অসংলগ্ন তথ্য দাখিল করায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে রংপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম রাজু, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার, জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত রওশনপন্থি নেতা বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু, শাহিনুর আলম, মো. মঞ্জুম আলী, তৃণমূল বিএনপির বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের শ্যামলী রায়ের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ছয়জন। যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে বিএনএফ প্রার্থী জিল্লুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বনাথ সরকার ও সুমনা আক্তারের তথ্য অমিল থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ ছাড়া রংপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম ম-ল ও জাকের পার্টির আশরাফ উজ জামানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। দাখিল করা ৯ জনের বাংলাদেশ কংগ্রেসের একরামুল হকের মনোনয়ন স্থগিত ও সমর্থকের স্বাক্ষর অমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এটিএম রাকিবুল বাশারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অন্যদিকে যাচাই-বাছাইয়ে আওয়ামী লীগের তুষার কান্তি ম-ল, জাতীয় পার্টির জিএম কাদের, জাসদের সহিদুল ইসলাম, জাকের পার্টির লায়লা আন্জুমান আরা বেগম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সফিউল আলম, বিএসপির আবদুর রহমান রেজু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, রংপুর ১, ২ ও ৩ সংসদীয় আসনে ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ, ৫ জনের বাতিল ও ৩ জনের স্থগিত করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল ও স্থগিতকারীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে প্রার্থী, তাদের সমর্থক, প্রস্তাবক, পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিদ্যুৎ বিভাগ ও নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহের ছয়টি আসনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল : ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ে ১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গতকাল শনিবার যাচাই-বাছাইয়ে বিভিন্ন ত্র“টি ধরা পড়ায় ১১ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রথম দিন ছয়টি আসনের প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজার রহমানের নেতৃত্বে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়।
এতে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক আহমেদ খান, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে মোহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে এ কে এম আবদুর রফিক, মোশাররফ হোসেন আজাদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বদর উদ্দিন আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম, মো. ফয়জুর রহমান, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে ডা. খন্দকার রফিকুল ইসলাম, মো. আবদুল মান্নান আকন্দ, মো. জাহাঙ্গীর আলম খান ও সেলিমা বেগমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গোপালগঞ্জ-১ নির্বাচনী এলাকার ৬ প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামির মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ আসনে বর্তমানে ৫ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। গতকাল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাইয়ের সময় কমিশন নির্ধারিত ১ শতাংশ ভোটারের মধ্যে একজন ভোটারের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে নড়াইল প্রতিনিধি জানান, নড়াইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিকদার মো. শাহাদত হোসেনের দাখিল করা ভোটারদের স্বাক্ষর সঠিক না থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া তৃণমূল বিএনপির শ্যামল চৌধুরীর নামে ভুল এবং জাতীয় পার্টির মো. মিল্টন মোল্যার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না থাকায় স্থগিত রাখা হয়েছে। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য বিএম কবিরুল হক মুক্তিসহ ৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
