যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিল ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার থেকে আলোচনাকারীদের দেশে ফিরতে নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। এদিকে ইসরায়েল গাজায় চালানো অভিযানের তীব্রতা বাড়িয়েই চলেছে। গতকাল শনিবার ইসরায়েল জানায়, রাতভর ৪ শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে গতকাল দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আলোচনায় অচলাবস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশনায় মোসাদের (ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা) প্রধান ডেভিড বারনিয়া ও তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে দোহা (কাতারের রাজধানী) থেকে ইসরায়েলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এতে আরও বলা হয়, হামাস সমঝোতার শর্ত মানছে না।
গত ২৪ নভেম্বর প্রথম যুদ্ধবিরতিতে আসে ইসরায়েল ও হামাস, যা চলে সাত দিন পর্যন্ত। এ সময় দুপক্ষ নিজেদের হাতে থাকা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বন্দিদের মুক্তি দেয়। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতির সময়ে গাজায় মানবিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়। পরে যুদ্ধবিরতির সময় আরও বাড়ানো নিয়ে কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় দোহায় আলোচনা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাতে কোনো ইতিবাচক খবর পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার সকালে যুদ্ধবিরতির পরপরই ইসরায়েলে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে তেল আবিব।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হচ্ছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে হামলা শুরুর পর গতকাল পর্যন্ত ১৯৩ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। সব মিলিয়ে গাজায় নিহত হয়েছে ১৫ হাজার ২০৭ জন ফিলিস্তিনি। নতুন করে হামলা শুরুর পর ইসরায়েল গাজার দক্ষিণে বেশি হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে খান ইউনিস এলাকা লক্ষ্য করে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল।
দামেস্কের কাছে হামলা চালাল ইসরায়েল : সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গত শুক্রবার দিনের পর গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, দখল করা গোলান মালভূমির দিকে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে। দামেস্কের বেশ কয়েকটি এলাকা লক্ষ্য করে হামলা হয়। ইরানের সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন বাহিনী, লেবাননের হিজবুল্লাহ ছাড়াও সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েল।
সিরিয়ায় ২০১১ সালের শুরু থেকেই শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েল অভিযোগ করে, সিরিয়ার মাটি ব্যবহার করে ইরানি মদদপুষ্ট বাহিনীগুলো ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে থাকে। হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর বেশ কয়েকবার এ ধরনের হামলা হয়েছে। তবে সর্বশেষ এই হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল।
