পাকিস্তান সিরিজটি হতে যাচ্ছে ডেভিড ওয়ার্নারের টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ। ঘরের মাঠ সিডনিতে অবসর নেওয়ার কথা গত জুনেই বলেছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তাকে নায়কের মতো বিদায় নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, এমনটা মনে করছেন মিচেল জনসন। সাবেক অজি পেসারের মতে, স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির অন্যতম কুশীলবকে এভাবে বিদায় দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য হবে অসম্মানের।
টেস্ট ক্রিকেটে গত কয়েক বছর সময়টা ভালো যাচ্ছে না ওয়ার্নারের। ২০১৯-২০ মৌসুমের পর থেকে এই সংস্করণে তার গড় মাত্র ২৮। ২০২০ সালের পর টেস্টে শতক মাত্র একটি। তবু তার ওপরই আস্থা রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে এই ওপেনারকে রেখেছে তারা। পার্থে আগামী ১৪ ডিসেম্বর শুরু প্রথম টেস্ট।
সিরিজ শুরুর আগে ওয়ার্নারের সমালোচনা করেন জনসন। এই ওপেনারের বিদায় সিরিজের সাজ সাজ রব নিয়ে ক্ষুব্ধ তিনি। নিজের সাবেক সতীর্থের বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘যেভাবে ওয়ার্নারের বিদায়ী সিরিজ নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি, কেউ কী আমাকে বলতে পারবেন কেন এমনটা করছি। কেন একজন ধুঁকতে থাকা টেস্ট ওপেনার নিজের ইচ্ছেমতো বিদায় জানানোর সুযোগ পাচ্ছে। আর কোন যুক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারির অন্যতম প্রধান চরিত্র নায়কোচিত বিদায় পাচ্ছে।’
তবে ওয়ার্নারের রেকর্ড যে ভালো সেটা স্বীকার করছেন জনসন। অজিদের হয়ে সব মিলিয়ে ৫৯০ উইকেটের মালিক বলেছেন, ‘অবশ্যই, সব মিলিয়ে তার ক্যারিয়ার রেকর্ডটা দুর্দান্ত। অনেকে আমাদের অন্যতম সেরা ওপেনারও বলবেন। কিন্তু সর্বশেষ তিন বছরের টেস্ট ক্যারিয়ার একদম অতি সাধারণ। তার ব্যাটিং গড় নিচের দিকের ব্যাটসম্যানদের কাছাকাছি।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০১৮ সালের স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির ঘটনার প্রসঙ্গে জনসন বলেছেন, ‘এটা ঠিক স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারিতে সে একা ছিল না। তবে সে সময় দলের অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড় ছিলেন। যে নিজেকে ‘নেতা’ মনে করে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পছন্দ করতেন। এখন যেভাবে সে বিদায় নিচ্ছে সেটা আমাদের দেশের জন্য একই রকম ঔদ্ধত্য এবং অসম্মানের। ভক্তরা ওয়ার্নারের জন্য কী নিয়ে আসবেন? বানিংসের (অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানি) তো স্যান্ডপেপার শেষ হয়ে যাবে।’
