গাজা উপত্যকায় ২৪ ঘণ্টায় সাত শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরায়েল। গতকাল রবিবার হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা প্রশাসনের তরফ থেকে এ দাবি করা হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ গাজায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব। এদিকে কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা থেকে ইসরায়েল সরে আসায় হামাস বলছে, ইসরায়েলি আগ্রাসন না থামলে বন্দি ও জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার কোনো আলোচনা হবে না। গত শনিবার রাত থেকে গতকাল দিনভর দক্ষিণ গাজায় জল, স্থল ও আকাশপথে একযোগে হামলা চালায় ইসরায়েল। খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল। জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে কয়েক দফায় হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে অনেকবার জাবালিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল তারা। খান ইউনিস এবং মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর মধ্যকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণে যে কয়েকটি হাসপাতাল চলছে, সেগুলোতে আহত রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার অধিক। হতাহত সংখ্যা সম্পর্কে গাজার প্রশাসন জানায়, গতকাল পর্যন্ত নিহত হয়েছে ১৫ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
এর মধ্যে জাতিসংঘ গতকাল বলেছে, গাজার প্রতি পাঁচজনের চারজনই তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। উপত্যকার ৭০ শতাংশ মানুষ আশ্রয়হারা হয়েছে। অর্থাৎ গাজার ২২ লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে ১৮ লাখই বাড়িঘর থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন মানতে হামাস ও ইসরায়েলকে আহ্বান আইসিসির কৌঁসুলির : নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ইসরায়েল ও হামাসকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে অনুরোধ করেছেন। তিনি সতর্ক করেন, তার দপ্তর গাজায় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরে চার দিনের সফরে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
করিম খান বলেন, সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে। তা না হলে আইসিসি অভিযোগসাপেক্ষে তার কাজ করে যাবে। বেসামরিক মানুষের কাছে খাদ্য, পানি ও অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সরবরাহ অবিলম্বে পৌঁছে দিতে হবে।
