একশ’ বছরের বেশি সময় আগে ব্রিটিশদের তৈরি কারাবিধি (জেল কোড) এখনো সংস্কার না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উচ্চ আদালত। হাইকোর্ট বলেছে, ‘৫২ বছরে কত সরকার এলো আর গেল কিন্তু ব্রিটিশদের তৈরি জেল কোড এখনো সেভাবেই রয়ে গেছে।’ ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার বিরুদ্ধে করা এক রিট মামলার শুনানিতে গতকাল রবিবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে আজ সোমবার আদেশের জন্য দিন রেখেছে।
গত সপ্তাহে গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোর জেলা যুবদলের সহসভাপতি আমিনুর রহমান সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ কলেজের প্রভাষক। গত ২ নভেম্বর নাশকতার অভিযোগে তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হৃদরোগে আক্রান্ত আমিনুরকে যশোর থেকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাকে হাসপাতালে ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া পরিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি খাওয়ার সময়ও তার হাতকড়া খোলা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় আমিনুরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন গত বুধবার হাইকোর্টের আদালতের নজরে এনে স্বতঃপ্রণোদিত নির্দেশনা চান সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী। আদালত আইনজীবীকে রিট আবেদন করার পরামর্শ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল এ রিট আবেদনটি করা হলে এটি শুনানির পর্যায়ে আসে।
অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানিতে সংবিধানে বর্ণিত, বিচার ও দ- সম্পর্কে রক্ষাকবচ, কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেওয়া বা নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ না করাসহ মৌলিক মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ পড়ে শোনান। একপর্যায়ে হাইকোর্ট বলে, ডান্ডাবেড়ি নিয়ে এর আগে সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন (নীতিমালা) রয়েছে। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি (আমিনুর) একজন শিক্ষক। কিন্তু তার প্রতি এ ধরনের নিষ্ঠুর আচরণ সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী। এ জে মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশ্যে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ‘জেল কোডটি ১০০ বছরের পুরনো। ব্রিটিশদের তৈরি এ জেল কোড এখনো চলছে।’
এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, এটি করা (সংস্কার) উচিত ছিল।
হাইকোর্ট প্রশ্ন রেখে বলে, ‘তাহলে করলেন না কেন? ১৯৪৭ সালের পর ব্রিটিশরা গেল। আপনারা শুধু সংসদে এলেন আর গেলেন। ৫২ বছরে কত সরকার এলো আর গেল। কিন্তু জেল কোডটি হুবহু রেখে দেওয়া হলো।’
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
