পটুয়াখালীর সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করতে বৃক্ষ রোপণ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। সৈকত পাড়ে ঝাউ গাছ, আকাশ মনি, নারিকেল ও আম গাছ, কৃষ্ণচূড়া, দেবদার গাছ দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়। নানা প্রজাতির গাছগাছালি বড় হলে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বৈচিত্র্যময় এবং সৈকতের পরিবেশকে নান্দনিক করে তুলবে এ বাগান।
ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা পর্যটক অভি আহমেদ বলেন, কুয়াকাটায় যে দিকে চোখ যায় সে দিকে সাগর আর সাগর। রৌদ্রের সময় বালুতে হাটতে কষ্ট হয়। পাশে যদি বড় কোন বাগান থাকত তবে ভালো হতো। বিশ্রাম নেওয়া যেত।
যশোর থেকে আগত পর্যটক হুমায়ুন কবির বলেন, পরিবার নিয়ে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা ভ্রমণে আসলাম। এসে দেখি শুধু সাগর আর সাগর। সাগরের কাছে যেতে হলে বালু। রৌদ্রের সময় বালু থাকে গরম। মাঝে কোনো বাগান নেই। ছোট ছোট গাছ রোপণ করা হয়েছে। বাগানের গাছ যখন বড় হবে তখন পর্যটকরা গাছের ছায়ায় বসে সমুদ্রের গর্জন উপভোগ করতে পারবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে ছবি তুলে সেই স্মৃতি ধরে রাখতে পারবে। তিনি আরও বলেন, এ রকম বাগান আরও বৃহৎ পরিসরে সরকারের করা দরকার। পৌর কর্তৃপক্ষ এতো সুন্দর উদ্যোগ নেওয়ায় তাদের জন্য জানান এই পর্যটক।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কুদ্দুস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১৯৭৫ সালে কুয়াকাটায় নারিকেল, ঝাউগাছ , করাই, পেয়ারা বাগান ছিল। যা কালের বিবর্তনে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। পর্যটকরা সমুদ্রের পাড়ে এসে গাছের ছায়া খোঁজ করে। কিন্তু আগের মতো গাছ না থাকায় তারা বিশ্রাম নিতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় যদি বনায়ন করতো তবে ভালো হতো। পর্যটকরা গাছের ছায়ার নিচে বসে সমুদ্রের গর্জন উপভোগ করতে পারতো।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০ বছর পূর্বে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসত। ২০ থেকে ৩০ বছর পরে সেই পর্যটক ভ্রমণে এসে ফয়েজ মিয়ার বাগানের খোঁজ করে। সমুদ্রের অব্যাহত ভাঙ্গনের কারণে সেই বাগান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সুনে তারা কষ্ট পায়।
তিনি আরও বলেন, ২০ থেকে ৩০ বছর পূর্বের সেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে খাস জমিতে পৌরসভার অর্থায়নে ৩ হাজার ঝাউ চারা, এক হাজার আকাশ মনি, ৩০০ কৃষ্ণচূড়া, দেবদার চারা ৩০০, নারিকেল চারা ৬০০, ২ হাজার ৫শ আম চারা রোপণ করা হয়েছে। ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি ফলজ বৃক্ষ থেকে পৌরসভা রাজস্ব পাবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, আগামী মৌসুমে নব নির্মিত চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে দশ হাজার ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে।
মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার যে সুন্দর বনায়ন সৃজন করছে এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা পাবে। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকৃষ্ট করবে। বাগানের গাছ গুলো বড় হলে সমুদ্রের অব্যাহত ভাঙ্গন হয়তো রক্ষা পাবে। বাগান রক্ষার্থে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
