হামাস নির্মূলের জন্য পরিচালিত ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কেন্দ্র এখন দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহর। বরাবরের মতো ইসরায়েল বেসামরিক প্রাণহানি বন্ধ করার পাশাপাশি খাদ্য-পানি প্রবেশের ওপর অবরোধ প্রশমনের অনুরোধে তোয়াক্কা করছে না। গাজা যুদ্ধের মধ্যে পশ্চিম তীরেও চলছে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘাত। এর মধ্যে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে সহিংসতা সৃষ্টিকারী ইহুদিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেবে ওয়াশিংটন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, গত ৭ অক্টোবরের পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে খান ইউনিসেই হামাসের সঙ্গে তাদের সবচেয়ে তীব্র লড়াই হচ্ছে। শহরটিতে হামাসের সামরিক শাখা আল কাসাম ব্রিগেডের সঙ্গে চলছে তুমুল যুদ্ধ। তবে শুধু যে দক্ষিণেই হামলা হয়েছে তা নয়। বরং গাজা শহরের জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরেও হামলা হয়েছে। দেইর আল-বালায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ৪৫ জনের মতো। পশ্চিম তীরের নাবলুসে গতকাল এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার খান ইউনিসের একটি স্কুলেও হামলা হয়। সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত ১৬ হাজার ২৪৮ জনের মতো।
গতকাল দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কমান্ডার জেনারেল ইয়ারন ফিনকেলম্যান বলেন, ‘স্থল অভিযান শুরুর পর সবচেয়ে কঠিন দিন পার করেছি আমরা।’ এদিকে গতকাল হামাস দাবি করেছে, তাদের হামলায় আটজন ইসরায়েলি সেনা হতাহত হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টার লড়াইয়ে তারা দুই সেনাকে হারিয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে ৮৩ জন ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারিয়েছে এ যুদ্ধে।
খান ইউনিস এলাকার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র নাসের হাসপাতালে আহত রোগী দিয়ে পরিপূর্ণ। সেখানে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ আহত ফিলিস্তিনি চিকিৎসা নিতে এসেছে। অ্যাম্বুলেন্স-গাড়ি না পেয়ে গাধার গাড়িতে চেপে আসছে আহতরা। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে খাদ্য ও পানির সংকট তীব্র। নেই ওষুধেরও জোগান।
পশ্চিম তীরে সহিংসতাকারী ইহুদিদের ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা : ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী অবৈধ বসতি স্থাপনাকারী ইসরায়েলিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত মঙ্গলবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। এর এক দিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বসতি স্থাপনকারীরা বিভিন্ন সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে, যার ফলে ভূমি হারাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। তবে এসব কাজ বন্ধ করতে ইসরায়েলি প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্লিঙ্কেন লিখেছেন, ‘পশ্চিম তীরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্টের পেছনে যারা জড়িত থাকবে, তাদের এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংস আচরণ করা উগ্রপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
গাজাকে নিরস্ত্র রাখতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত-নেতানিয়াহু : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত মঙ্গলবার বলেন, আইডিএফের উচিত যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গাজাকে নিরস্ত্র রাখার পদক্ষেপের জন্য উপত্যকাকে তেল আবিবের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এমনকি এ দায়িত্ব আন্তর্জাতিক বাহিনীকে দিতেও চান না তিনি।
অবশ্য তিনি এর আগেও কয়েকবার যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছিলেন। এরপর গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ থামলে গাজাকে অবশ্যই নিরস্ত্র করতে হবে। আর এ কাজ একমাত্র একটি বাহিনীই নিশ্চিত করতে পারে আর তা হলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।’
০
