পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগে পৃথক দুই মামলায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৩৮ নেতাকর্মীকে কারাদ- দিয়েছে ঢাকার দুই আদালত। ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলায় ২৬ জনকে ও কোতোয়ালি থানার মামলায় ১২ জনকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে গত তিন মাসে শুধু ঢাকার কয়েকটি আদালতে পুলিশের ওপর হামলা, নাশকতা ও বিস্ফোরণের ৩৮টি মামলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৬৫৩ জন নেতাকর্মীর সাজা হলো।
পাঁচ বছরের বেশি সময় আগে ক্যান্টনমেন্ট থানার মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী ২৬ জনকে দন্ডদেন। খালাস দেন চারজনকে। দন্ডিত আসামিরা হলেন আব্দুর রশিদ, শামসুল আলম বাবুল, প্রিন্সিপাল মো. লিয়াকত আলী, মো. পারভেজ, রমিজ উদ্দিন রমু, মিয়াজ উদ্দিন, এহসানুল হক বাবু ওরফে নুুরুল আফসার বাবু, তারেকুল রাজ্জাক, নাজির উদ্দিন ওরফে দারোগা আলী, সফুর উদ্দিন ওরফে সফু, জাহিদ হাসান খান রনি, তোফাজ্জল হোসেন বাবু, আবুল হোসেন, মাঈনুল ইসলাম অমি, মো. আরিফুল ইসলাম তুহিন, তাসলিমা আক্তার ভূঁইয়া বেবী, মো. জিন্নাত আলী, মো. শাহজালাল শেখ সুমন, মো. ছাইফুল ইসলাম, মো. কবির, মো. সাদ্দাম হোসেন রাব্বি, মোমিনুল হক অপু, মো. মোশারফ হোসেন, মো. হেলাল উদ্দিন হেলু প্রমুখ।
আব্দুর রশিদ, প্রিন্সিপাল মো. লিয়াকত আলী, মো. পারভেজ, তারেকুল রাজ্জাক ওরফে তারেক, সফুর উদ্দিন ও সফু, জাহিদ হাসান খান রনি, তোফাজ্জল হোসেন বাবু, মাঈনুল ইসলাম ওরফে অমি, মো. আরিফুল ইসলাম তুহিন, মো. জিন্নাত আলী, মো. শাহজালাল শেখ সুমন, মো. সাদ্দাম হোসেন রাব্বি ও মোমিনুল হক অপুসহ ১৪ জনকে পৃথক ধারায় ছয় মাস ও দুই বছর মোট আড়াই বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের পৃথক দুই ধারায় দেড় বছর করে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় কবির নামের এক আসামি কারাগারে থাকলেও বাকিরা এখনো পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মামলার নথি অনুযায়ী, নাশকতার অভিযোগে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
পাঁচ বছর আগে নাশকতার অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় করা একটি মামলায় বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের ১২ নেতাকর্মীকে পৃথক দুই ধারায় এক ও দুই বছর মোট তিন বছর করে কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম সাইফুল ইসলাম এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আনোয়ারুল আজিম, হায়দার আলী বাবলা, মো. আলাউদ্দিন, শওকত, পারভেজ, ইমরান হোসেন ইমু, সাঈদ আহম্মেদ রানা, হাজী ফরহাদ রানা, আরিফ হোসেন বাপ্পি, ফজলুল হক মনি, হাজী মো. নাজিম উদ্দিন ও মো. সোবহান। কারাদন্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকার অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে নাশকতার অভিযোগে এ মামলা করে পুলিশ। বিচারকালে সাতজনের সাক্ষ্য নেয় আদালত।
আমীর খসরু স্বপন প্রিন্স জামিন পাননি : বিএনপির মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পুলিশ কনস্টেবল নিহতের মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জামিনের আবেদন নাকচ হয়েছে। একই মামলায় দলটির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপনেরও জামিন হয়নি। এ ছাড়া পুলিশের পিস্তল ছিনতাইয়ের মামলায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্সকে জামিন দেয়নি আদালত।
গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অবকাশকালীন বিচারক ফয়সল আতিক বিন কাদের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুরের এ আদেশ দেন।
