যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব আলস্টারের ডেভেলপমেন্ট অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক এস আর ওসমানী বলেছেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অভাব থাকলে, ঋণ বৈষম্য ঘটে এবং দরিদ্ররা পর্যাপ্ত তহবিল পায় না। তাছাড়া এটি মধ্যপ্রাচ্যে আরব বসন্তের মতো সামাজিক অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র মানে এই নয় যে আপনি দিনের ভোট দিনে দিতে পারলেন বা রাতে দিলেন। অর্থনীতির ফলাফল পেতে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ দুটিতেই সমান বিনিয়োগ করতে হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) তিন দিনের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
রাজধানী গুলশানের হোটেল লেকশোরে বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিআইডিএসের এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘উন্নয়ন, ন্যায্যতা এবং স্বাধীনতা’।
অধিবেশনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এস আর ওসমানী। তিনি তার প্রবন্ধে বলেন, ন্যায়বিচার এবং বাকস্বাধীনতা দুটোই উন্নয়নে অবদান রাখে। আপনি আগে উন্নয়ন করে পরে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। সড়ক, সেতু উন্নয়নের উদাহরণ। আপনি এখানে বলতে পারেন না যে, আমি আগে উন্নয়ন করি, অবকাঠামো পরে হবে ঠিক তেমনি আপনি আগে উন্নয়ন করে পরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন, সেটি বেমানান। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, ন্যায়বিচার উন্নয়নের পথ সহজ করে, অন্যদিকে অন্যায়-অবিচার উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হলে সমাজে ন্যায্যতা ও স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি মনে করেন, সরকারের উন্নয়নে মগ্ন হওয়া উচিত নয়। বরং আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করে তাদের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আচ্ছন্ন হওয়া উচিত। স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি খাত উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। দুঃখের বিষয়, অধিকাংশ সরকারই এর বিপরীত কাজ করে।
সম্মেলনের প্রথম দিন চারটি অধিবেশনে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উদ্বোধনী অধিবেশনে বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান।
