সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস বা ঘাড়ের ক্ষয়রোগ

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:২৯ পিএম

মেরুদন্ডের ঘাড়ের অংশের অস্থি ও তরুণাস্থিগুলোতে ক্ষয়ের কারণে গঠনগত পরিবর্তন হয়ে যে রোগ হয়, তাকেই বলে ঘাড়ের বয়সজনিত ক্ষয়বাত বা সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস। এটি বয়স বৃদ্ধিজনিত রোগ।

কারা ঝুঁকিতে : দীর্ঘসময় যারা ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে কাজ করেন।  ঘাড়ে ঝাঁকুনি লাগে এমন কাজ করলে। মাথায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভার নেওয়া,মোটরসাইকেল বা সাইকেলে দীর্ঘ ভ্রমণ।

লক্ষণ : ঘাড় নাড়াতে এবং ঘোরানোর সময় ব্যথা হয়। ঘাড়ে শক্ত অনুভূতি থাকে। ঘুমানোর সময় কষ্ট লাগে। হাতে, বাহুতে কখনো কখনো ঝিন ঝিনও অবশ অনুভূতি হয়। সুচ ফোটানোর অনুভূতি লাগা। অনেক সময় ব্যথা কাঁধে, ওপরের পিঠে, বুকে, মাথার পেছনে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চিকিৎসা : ঘাড়ের ক্ষয়বাতের সাধারণত তিন ধাপে চিকিৎসা

করা হয়। ১. কনজারভেটিভ চিকিৎসা ২. ইন্টারভেনশন (ইঞ্জেকশন) চিকিৎসা এবং ৩. অপারেশন (সার্জারি)

কনজারভেটিভ চিকিৎসা : জীবনধারা পরিবর্তন আনতে হয়। ঘাড় সামনে ঝুঁকিয়ে বেশি সময় কাজ না করা। ঘুমানোর সময় ঘাড়ের বাঁকের সঙ্গে জুতসই বালিশ ব্যবহার করতে হবে। শুয়ে শুয়ে বা কাত হয়ে বই পড়া বা ল্যাপটপে কাজ না করা। পেছনে ঘাড় ঘুরিয়ে না তাকিয়ে শরীর ঘুরিয়ে তাকাতে হবে। মাথায় ভারী জিনিস বহন না করা। সেলুনে ঘাড় ম্যাসাজ না করা। বোতলে করে পানি পান না করা। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম করা। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত ওষুধ সেবন করা।

ইন্টারভেনশন চিকিৎসা : এটি হলো ব্যথানাশক এপিডুরাল ইনজেকশন। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে মেশিনের মাধ্যমে ঘাড়ের জয়েন্টের ভেতরে

ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। যা নার্ভ বা স্নায়ুর মূলে পৌঁছে। ফলে স্নায়ুমূলের উত্তেজনা কমে যায়, যা ঘাড়ের ব্যথা কমায়।

অপারেশন :  কখনো কখনো ডিকম্প্রেশন সার্জারির মাধ্যমে হাড়ের ওপর চাপ ঠিক করার জন্য এবং মেরুদ-ের ফিউশন থেরাপির মাধ্যমে মেরুদ-ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শেষ উপায় হিসেবে অপারেশন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত