বহু ফ্ল্যাট ও প্লট নিক্সন চৌধুরীর টাকা বেশি স্ত্রীর

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:৪৫ এএম

ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। এর আগে তিনি পরপর দুইবার ফরিদপুর-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তিনি তৃতীয়বারের মতো এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচন করছেন। তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই বছরের নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তার মালিকানাধীন কৃষি জমির পরিমাণ ৩৮ শতাংশ দেখানো হয়। এবার হলফনামায়, তার কাছে ৩৮ লাখ ৩০ হাজার ৬০০ টাকা নগদ এবং ব্যাংকে জমা ৭ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৯ টাকা, স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ টাকা নগদ এবং স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রয়েছে ৭ লাখ ২৩ হাজার ১৯১ হাজার টাকা।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা তার হলফনামায় কৃষি জমির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৪২ শতাংশ। সেখানে গত দশম সংসদ নির্বাচনে দেখানো হয় ৩৮ শতাংশ। এ ছাড়া তার স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট ও ৭ দশমিক ৫ কাঠার একটি প্লট দেখানো হয়। তবে তার নিজের নামে কোনো ফ্ল্যাট বা প্লট দেখানো হয়নি। এবারের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের হলফনামায় রাজধানীর বনানীতে দুটি, গুলশানে দুটিসহ মোট চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং প্লট দেখানো হয় ঢাকার পূর্বাচল, আদাবর, শিবচর হাউজিংসহ চারটি স্থানে। এগুলো স্ত্রী ও নিজ নামে দেখিয়েছেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষি খাতে আয় দেখানো হয় ২ কোটি ৫ লাখ টাকা। তবে এ বছর সে আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক লোন আছে ১৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৮ টাকা। তবে স্ত্রীর নামে আগের হলফনামায় কোনো নগদ অর্থ না থাকলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনী হলফনামায় ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ টাকা দেখানো হয়েছে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সংসদ সদস্য মজিবুর রহমানের হলফনামা থেকে দেখা যায়, তার নিজের নামে স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩০ তোলা, স্ত্রীর রয়েছে ৫০ তোলা। এ ছাড়া কৃষি জমি দেখানো হয়েছে ব্রাহ্মণপাড়ায় ৯৭৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, ৫১০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ, ২৩৪ শতাংশ, ২৯০ শতাংশ। এ ছাড়াও সাভারে ৩ দশমিক ২৮২৫ শতাংশ। এর বাইরে স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন, অকৃষি ৫ কাঠা প্লট শিবচর হাউজিংয়ে, পূর্বাচল রাজউকে ৭ দশমিক ৫ কাঠা, আদাবরে ০.০১২১৫ একর, দত্তপাড়া শিবচরে অকৃষি ০.৩৮ একর। এর বাইরে আরও রয়েছে নিজ ও স্ত্রীর নামে ঢাকার বনানীতে ফ্ল্যাট ৩৭১৬.১১ বর্গফুটের, বনানী প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডে একটি ফ্ল্যাট, গুলশানে ৪ হাজার ৮৯১ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, গুলশান রোড-৭৯, হাউজ-১৬-এ একটি ফ্ল্যাট এবং ব্রাহ্মমপাড়ায় দোতলা বাড়ি।

বার্ষিক আয় হলফনামায় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছেন, বার্ষিক আয় কৃষি খাতে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে নীপা পরিবহন লিমিটেড (সম্মানী) ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, রিতা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (সম্মানী) ৬০ হাজার টাকা, স্বাধীনবাংলা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং স্টেশন (অংশ) ৭ লাখ ৭০ হাজার ৮৫০ টাকা, এন ডেইরি ফার্ম, এন ডাক ফার্ম, এন ফিশারিস থেকে ৭৬ লাখ ১৮ হাজার ৮৮৫ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক মুনাফা (ব্যক্তিগত) থেকে ৯ হাজার ৯০৩ টাকা, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত পরিতোষিক ও অন্যান্য ২২ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৫ টাকা। এর বাইরে আরও দেখানো হয়েছে স্টক ব্যবসা থেকে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নির্ভরশীলদের আয় দেখানো হয়েছে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৭২ টাকা, পরিচালক মাস্ট প্যাকেজিং লি. (সম্মানী) ২১ লাখ টাকা, ছুটি ভাতা (ইত্তেফাক পাবলিকেশন লি.) ৪ লাখ টাকা। ব্যাংক মুনাফা ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৮ টাকা, স্টক ব্যবসা (মেয়ে) ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

আরও সম্পদ হিসেবে নিজ নামে ইলেকট্রিক সামগ্রী ৯ লাখ ১০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা, বন্দুক, পিস্তল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, পিয়ানো ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে এবং স্ত্রীর নামে এফডিআর/আইপিডিসি ফাইন্যান্সে বিনিয়োগ ২৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৫১ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত