গাজা যুদ্ধ

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো, সমালোচনার মুখে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:৪৬ এএম

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার তোলা প্রস্তাবটিতে ওয়াশিংটন ‘ভোটো (আমি ইহা মানি না)’ দেওয়ার পরপরই এ নিয়ে সারা বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে কপ সম্মেলনেও এই প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে। সেখানে জলবায়ু সুবিচারের পাশাপাশি গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবি ওঠে। এ ছাড়া আরব বিশে^ও যুদ্ধবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ভেস্তে যাওয়ার পর ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শাতায়েহ বলেন, ‘এই পদক্ষেপ অপমানজনক। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের ওপর ভেটো দিয়ে ইসরায়েলকে গণহত্যা ও ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাস্তুচুতির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র।’ জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের দূত রিয়াদ মনসুর বলেন, ‘আপনি যদি ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন করেন, তাহলে অবশ্যই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই হবে।’

গাজায় অব্যাহত নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে গত শুক্রবার আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছেন। ইসরায়েল বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থীশিবিরসহ পুরো গাজায় নির্বিচার বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল শনিবারও দক্ষিণ গাজায় নির্বিচারে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। এই আগ্রাসনে এরই মধ্যে ১৭ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি প্রাণ হারিয়েছে যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। লেবাননের বৈরুত, জর্ডানের আম্মানসহ বিভিন্ন জায়গায় মানুষ যুদ্ধবিরতির দাবিতে বিক্ষোভ হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মানুষ এসব বিক্ষোভে সমবেত হয়।

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেওয়ায় কড়া নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে হামাসের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ ‘অনৈতিক ও অমানবিক’।

হামাসের রাজনৈতিক শাখার সদস্য ইজজাত এল-রেশিক বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মানুষদের হত্যার পাশাপাশি আরও গণহত্যা চালানো এবং জাতিগতভাবে নির্মূল করার পরিকল্পনায় নাম লেখাল।’

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূত গিলাদ এরদান স্বস্তিপ্রকাশ করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সব জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা এবং হামাসের ধ্বংসের মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হবে।’

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৩ সদস্য পক্ষে ভোট দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিয়েছে আর যুক্তরাজ্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি নিরাপত্তা পরিষদ।

প্রস্তাব ভেস্তে দেওয়ার পর মার্কিন দূত রবার্ট উড বলছেন, ‘যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের খসড়া তৈরির পাশাপাশি এ নিয়ে ভোটাভুটির পদক্ষেপ খুব দ্রুত নেওয়া হয়েছে। এতে উপযুক্ত পরামর্শেরও অভাব দেখা গেছে। ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামাসের আকস্মিক হামলার কথাই খসড়ায় আনা হয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ অবশ্য অনুমেয়ই ছিল। ঐতিহাসিককভাবেই দেখা গেছে ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে গেলে যুক্তরাষ্ট্র ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব হয়। এবার যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ নিন্দার ঝড় বইয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন, এই ভেটো দেওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় মৃত্যু, ব্যাপক ধ্বংস এবং মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা বেসামরিক মানুষদের দুর্ভোগের প্রতি নির্মম অবহেলা দেখিয়েছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) বলেছে, ‘মানুষের জীবন তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ।’

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেন, যতদিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন করা অব্যাহত রাখবে, ততদিন যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। চীনের ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আত্মপ্রতারণামূলক। রাশিয়া মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের নিষ্ক্রিয়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত