এমন নির্বাচন করব সারা বিশ্ব প্রশংসা করবে : কাদের

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:০০ এএম

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ বদনামের ভাগিদার হতে চায় না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা বদনামের ভাগিদার হতে চাই না। এমন একটা নির্বাচন করব সারা বিশ্ব প্রশংসা করবে। অতীতে অনেক কথা, অনেকেই বলেছেন। নির্বাচন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা, কোথাও ক্রুটিমুক্ত নয়। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এবার আরও ভালো একটা নির্বাচন করব, উপহার দেব। এটাই আমাদের শপথ, অঙ্গীকার।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত যৌথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ দলটির সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক হয়।

নেতাকর্মীদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনটা যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সেই ব্যাপারে আমাদের দলের নেতাকর্মীদের অবদান রাখতে হবে। আপনাদেরও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চ্যালেঞ্জিং সময়, এ সময় আমাদের অতিক্রম করতে হবে। স্বাধীনতার আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও সংগ্রামের বিকল্প নেই।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতদের প্রতি তিনি বলেন, ‘এটার তো একটা সংখ্যা আছে, তার বাইরে দেওয়া যায় না। এতে অনেকের মনে দুঃখ আছে। তারপরও আমাদের নেত্রী স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিযোগিতা করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। সুযোগের অপব্যবহারটা যেন কেউ না করেন।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এখানে জোর-জবরদস্তি করবেন, নৌকার সঙ্গে মল্লযুদ্ধ করবেন, সেটা হবে না। শৃঙ্খলার সঙ্গে থাকতে হবে। প্রতিযোগী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সন্ত্রাসীরা প্রশ্রয় পায় এমন কোনো কাজ করবেন না, করতে পারবেন না। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে, কেউ গায়ের জোর খাটাবেন না। আমরা এটা সহ্য করব না। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে, জনগণ যা চায় তাই হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি, দুঃখ-কষ্ট থাকতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগে মূল্যায়ন আছে। কোনো না কোনোভাবে আমরা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করি। অন্তত শেখ হাসিনা যত দিন আছেন, তিনি খুঁজে খুঁজে কর্মীদের খবর নেন, বঞ্চিতদের সময়মতো মূল্যায়ন করেন। হা-হুতাশ করার কোনো দরকার নেই। দলের সঙ্গে লেগে থাকুন, মূল্যায়ন হবে।’

১৪ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগির বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখন কি জনসভা ডাক দিয়ে আমরা এগুলো করব? আলোচনার জন্য একটি পরিবেশ লাগে। এসব আলোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। এটা তো জনসভা ডেকে হবে না, গণমাধ্যম ডেকে হবে না। আলোচনা এভাবেই হয়, অতীতেও হয়েছে। আলোচনা হয়েছে, ১৪ দল হয়েছে, মহাজোট হয়েছে এবং আসন সমঝোতাও হয়েছে। প্রক্রিয়াটা এমনই। আগামী ১৭ তারিখের মধ্যে সব সমাধান হয়ে যাবে। এটা তো আর ঢাকঢোল পিটিয়ে হবে না।’

‘মামলার রায় দিয়ে সরকার বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে’ দলটির এ দাবি প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘হামলা করলে মামলা হবে। মামলা হলে গ্রেপ্তার হবে, সাজা হবে। পুলিশ মারবেন আর এটা কি বিনা বিচারে যাবে? এ ঘটনা যারা ঘটায়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বিশাল সমাবেশ আয়োজন করতে চিঠি দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ রক্ষা করেছি। সমাবেশ করেনি আওয়ামী লীগ। কিন্তু নির্বাচন পণ্ড করার জন্য যারা নাশকতা করার চেষ্টা করছে, তাদের কীভাবে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করার অনুমতি দিল? নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন, এটা কি ন্যায়বিচার হলো?

২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ সরকারি দল পণ্ড করেছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন কলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব বুদ্ধিজীবী বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে এত বড় ডাহা মিথ্যা কথা লিখতে পারে! পুলিশের ওপর হামলা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, পুলিশ হাসপাতালে হামলার কথা দেখলাম না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এসব আঁতেলরা বিদেশিদের ভুল পথে পরিচালিত করে। কীসের বিনিময়ে বাস্তব অবস্থা আড়াল করে জানি না। তারা আজকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের নিবন্ধ কীভাবে ছাপা হয় জানি না!’

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও মির্জা আজম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত