দুর্বৃত্তরা রেলের লাইন কেটে দিলে লাইনচ্যুত হয় ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনসহ পাঁচটি বগি। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু ও ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের গতি কম থাকায় হতাহতের সংখ্যা কম হয়েছে। অন্যথায় ঘটতে পারতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা নূরুল ইসলাম জানান, রাত ১১টায় মোহনগঞ্জ থেকে ট্রেনটি ছেড়ে আসে। তিনি ওই ট্রেনে স্ত্রীকে নিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকা আসছিলেন। গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর রেল স্টেশন পার হওয়ার পরই বিকট শব্দে ট্রেনটি কাত হয়ে পড়ে। পেছনের দিকে বগিতে ছিলেন। তখন রাত আনুমানিক সোয়া ৪টা বা সাড়ে ৪টা বাজে। এ সময় যাত্রীরা চিৎকার শুরু করলে বুঝতে পারেন ট্রেনে কিছু একটা হয়েছে। পরে জানতে পারেন, ট্রেনের ইঞ্জিন পড়ে গেছে লাইন থেকে।
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম। তিনি ইঞ্জিনের পরের বগিতেই ছিলেন। ঘন কুয়াশা থাকায় ট্রেন ধীর গতিতে চলছিল। তিনি ট্রেনে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ হলে তার ঘুম ভাঙ্গে। তখন দেখতে পান কয়েকটি বগি লাইন থেকে নিচু জমিতে পড়ে রয়েছে। অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে তিনিও অনেক কষ্টে জানালা দিয়ে বের হয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন।
তিনি বলেন, ধীরগতি থাকায় একজন নিহত হয়েছে। দ্রুতগতিতে ট্রেন চললে এ দুর্ঘটনায় আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতো। ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাত্রীদের তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি।
এই ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি এবং রেলওয়ের পক্ষ থেকে সাত সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
