তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

রেললাইন কাটা গাড়িতে আগুন এ কোন রাজনীতি

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:২৫ এএম

‘রেললাইন কাটা, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো এ কোন রাজনীতি’ প্রশ্ন রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরে ট্রেন লাইনের ২০ ফুট কেটে দেওয়া হয়েছে এবং এতে সাতটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে, একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন, অর্ধশতাধিকের বেশি যাত্রী আহত হয়েছে, ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রাজধানীতেও কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তাদের এই তথাকথিত অবরোধ শুরু হওয়ার পর দেশের কোথাও অবরোধ পালিত হয়নি। কিন্তু এ পর্যন্ত ৩৫০ যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে, সাতজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং বহু মানুষ আগুনে দগ্ধ হয়েছে। এই ট্রেন লাইন কাটা, গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো কোন রাজনীতি? এই অপরাজনীতি চিরদিনের জন্য বন্ধ হওয়া দরকার। আমরা সবাই যদি এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলি তাহলে এই অপরাজনীতি চিরদিনের জন্য বন্ধ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গুপ্তস্থান থেকে প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং করেন, মাঝেমধ্যে হঠাৎ ভোররাতে বা মধ্যরাতে তাকে রাস্তাতেও দেখা যায়। আচমকা ১০ কিংবা ৫ মিনিটের জন্য মিছিল করে আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতারা যেরকম করেন, ঠিক ওই রকমই তারা করছেন। মানুষ ও গাড়ি-ঘোড়া পোড়ানো, সন্ত্রাস নৈরাজ্য সৃষ্টি কখনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন নয়। এগুলো সন্ত্রাসী, দেশবিরোধী ও জনবিরোধী কর্মকাণ্ড। এদের এই অপরাজনীতি চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

সন্ত্রাসীদের বিচার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যারা মনে করছেন, যারা ট্রেন লাইন কেটেছে পুলিশ তাদের খুঁজে পাবে না, কিন্তু পুলিশ অবশ্যই তাদের খুঁজে বের করবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‘অবরোধের ডাককে মানুষ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে’ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা জানেন, দেশে ৪৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি অর্থাৎ বেশিরভাগ দলই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দেশ এখন নির্বাচনী উৎসবমুখর। কিন্তু নির্বাচন প্রতিহত করতে ক্রমাগতভাবে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষ থেকে গুপ্তস্থান থেকে অবরোধের ডাক দেওয়া হচ্ছে। দেশের মানুষ তো এতে সাড়া দেয়নি বরং তাদের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।’

‘জাতীয় পার্টি আগের মতোই আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে’ : জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা প্রশ্নে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পার্টির মহাসচিব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন, তারা নির্বাচন করার জন্যই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আমিও বিশ্বাস করি, তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভালো ফল করবেন। জাতীয় পার্টি আমাদের দীর্ঘদিনের সহযোগী, গণতন্ত্র ও সংবিধানকে রক্ষা করার জন্য তারা আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের পরিস্থিতিতেও জাতীয় পার্টি আগের মতোই আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।’

যারা নির্বাচন প্রতিহত করতে চেয়েছে তারা পালিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যারা প্রতিহত করতে চেয়েছে, তারা এখন পালিয়েছে এবং গুপ্তস্থান থেকে গাড়ি পোড়াচ্ছে। বর্তমান দেশ নির্বাচনমুখী। বিদেশি অনেক রাষ্ট্র যারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল, নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে কি পাঠাবে না, তারাসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে।

গতকাল সন্ধ্যায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের উদ্যোগে নির্দেশনা ও মতবিনিময় সভায় যোগদানের আগে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যা চাচ্ছে সরকার তা বাস্তবায়ন করছে। আপনারা জানেন, ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন দেশের অধিকাংশ ইউএনও, ওসিদের বদলি করেছে, অনেক ডিসি-এসপিদের বদলি করেছে। অতীতে এরকম ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অনেক কঠোর।’

জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টিসহ আমরা ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছি। ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালেও জোটবদ্ধ নির্বাচন হয়েছিল। তবে এই নির্বাচনেও আলোচনা চলছে, তারা স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রায় ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে আমাদের অনেকের সঙ্গে কৌশলগত জোট হবে।’

এরপর রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমি। সভায় রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত