জীবাশ্ম জ্বালানির বিরুদ্ধে ভারতের বড় উদ্যোগ!

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:২৭ এএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সদ্য শেষ হওয়া কপ-২৮ সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাসের বিষয়ে একটি নতুন চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে প্রথমবারের মতো তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধারাবাহিকভাবে সরে আসার বিষয়ে একমত হয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো। এর মধ্যে ভারত এই লক্ষ্য অর্জনে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেছে। দেশটি ২০২৭ সালের মধ্যে রাস্তায় ৫০ হাজার বৈদ্যুতিক বাস নামাতে চায়। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিমধ্যে একটি চুক্তিও করেছে ভারত সরকার। কপ-২৮-এর এক সাইড ইভেন্টে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, বর্তমানে দেশটিতে ১২ হাজার বৈদ্যুতিক বাস চালু রয়েছে। তবে আগামী চার বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা ৫০ হাজার করার লক্ষ্য আছে দেশটির সরকারের। এনডিটিভি জানাচ্ছে, লক্ষ্যটি বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে মোট ৩৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করা হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও নানা জনহিতৈষী গ্রুপ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হবে। আর বাকি ২৪০ মিলিয়ন দেবে ভারত সরকার।

তহবিল সংগ্রহের ব্যাপারে ভারতে প্রথম বৈদ্যুতিক বাস স্থাপনে নেতৃত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা মহুয়া আচার্য বলেন, ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ি বাড়ানোর জন্য এই তহবিল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, ভারত বৈদ্যুতিক বাসের দাম কমানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এনডিটিভি বলছে, ভারত সরকার পরিবহনকে ‘সেবা’ হিসেবে ঘোষণা করার ফলে বাস নির্মাতারা সরকারি সংস্থার কাছে বাস ভাড়া দিয়ে অর্থ নিয়ে থাকে। এমন পদক্ষেপ একদিকে স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষকে খরচ কমাতে এবং বাস সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত এর ফলে যানবাহন নির্মাতারা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বহন করার পাশাপাশি অনিশ্চিত আয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ফলে কোম্পানিগুলো উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছিল। এখন সরকারের নতুন তহবিল নির্মাতাদের ঝুঁকি কমানোতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।  

যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক দূত জন কেরি বলেন, এটি বেশ ইতিবাচক একটি বিষয়। কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেটি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত