‘৯০ পারসেন্ট লোক দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে’

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:০৩ পিএম

নির্বাচনে ৯০ পারসেন্ট ভোটার ভোট কেন্দ্রে হাজির করতে হবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য এই ৯০ পারসেন্ট লোককে দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে বললেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. জিল্লুল হাকিম।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে এই সভার আয়োজন করা হয়। জিল্লুল হাকিম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী-২ আসনের (পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা) সংসদ সদস্য। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এসময় জেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে রেলগেট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক চত্বরে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

আলোচনা সভায় জিল্লুল হাকিম বলেন, নির্বাচন আমাদের করতে হবে। এবং একটা জিনিস যেটা নির্বাচনে বিজয় বড় কথা না। ৯০ পারসেন্ট ভোটার ভোটকেন্দ্রে হাজির করতে হবে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্যে এই ৯০ পারসেন্ট লোককে দিয়ে নৌকায় ভোট দিতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার বিজয়ের মাধ্যমে আবার প্রধানমন্ত্রী করে আমরা এই দেশটাকে একটা উন্নত দেশে পরিণত করব। শেখ হাসিনা ছাড়া কারও ক্ষমতা নাই। সবাইতো নানা কাজে ব্যস্ত। কেউ সৌন্দর্য্য চর্চায় ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর। কেউ লুটপাটে ব্যস্ত। 
 
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার যে রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন হারিস চৌধুরী। তিনি বলতেন, তোমরা যা খুশি করো। দেশটার মাটি বিক্রি করে নিয়ে যাও। কিন্তু তারেক রহমানকে ৩ কোটি আর আমাকে ২ কোটি টাকা দিলেই সব জায়েজ। এইভাবে তারা লুটপাট করতেন। আমরাতো লুটপাটের সুযোগ দিতে রাজি নয়। আমরা এই দেশটাকে যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করছি। আমরা আজকের দিনে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন করেছি পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ করিয়েছি। আমরা এই দেশটাকেতো লুটপাটকারীদের কাছে, হানাদার বাহিনীর কাছে আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। 

তিনি আরও বলেন, আজকে দেখেন, আমেরিকা যেমন লম্ফঝম্ফ শুরু করেছিল তা অনেকটা থেমে গেছে। এখন আগেকার মতো কথাবার্তা কয় না। লম্ফঝম্বফও দেয় না। আমেরিকার কথা এখন কেউ শোনে না। আমেরিকা আগে একা সারা বিশ্বে মাতব্বরি করতো। এখন কত মাতব্বর হয়েছে। চীন মাতব্বর হয়েছে, রাশিয়া মাতব্বর হয়েছে, ভারত মাতুব্বর হয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অনেক মাতব্বর আছে। কেউ কারও কথা শোনে না। আমেরিকার মাতব্বরি আর নেই।

তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ওরা নির্বাচন বয়কট করেছে। নির্বাচন প্রতিরোধ করবে। প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কি বিএনপির আছে? প্রতিরোধ করার ক্ষমতা যদি থাকতো, তাহলে নির্বাচনে আসতো। কারণ ওদের সাংগঠনিক কাঠামো এই পর্যায়ে নেই যে ওরা নির্বাচন করবে। ওরা ঢাকায় যে আন্দোলনের ডাক দেয়, আপনারা দেখেন ওই চিহ্নিত লোকগুলোই ঢাকায় যায়। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। আবার এখনো বলে যে নির্বাচন হবে না।’

সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রার্থী কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী, সহ সভাপতি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রমজান আলী খান, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র আলমগীর শেখ প্রমূখ। সভা পরিচালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আইনজীবী শফিক হোসেন।

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত