তর্কাতীতভাবে লিওনেল মেসির সর্বোচ্চ অর্জন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জয়। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর কাতারের মাটিতে মেসির বিশ্বজয়ের সেই অবিস্মরণীয় মুহূর্তটি শব্দের জাদুকরি ব্যবহারে চিত্রিত করেছিলেন যিনি, দর্শকের মানসপটে চিরকালীন দৃশ্যকল্প তৈরি করেছিলেন যে শিল্পী, তার নাম পিটার ড্রুরি। পেশাদার এই ধারাভাষ্যকার আজ আর্জেন্টিনার ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের ১ বছর পূর্তির দিনে হয়ে উঠছেন প্রাসঙ্গিক।
সারা বিশ্বের ফুটবল ভক্তদের কাছে পিটার ড্রুরির পরিচয় ‘দ্য পোয়েট অব ফুটবল’ বা ফুটবলের কবি হিসেবে। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের রাতে সেই পিটার ড্রুরির কণ্ঠে উচ্চারিত কিছু কথা হয়ত সব আর্জেন্টাইন ভক্তদের হৃদয়ে এখনও গেঁথে আছে। গঞ্জালো মন্তিয়েল পেনাল্টি নিলেন, বল জালে জড়ালো। ভরাট কণ্ঠে, নিখুঁত ব্রিটিশ উচ্চারণে ড্রুরি শোনালেন অনন্য কিছু শব্দ। ঠিক যেন কবিতার মতো।
ফুটবল ইতিহাস ড্রুরিকে বেশি মনে রাখবে মেসিকে নিয়ে তার কাব্যিক ধারাভাষ্যের জন্য, যা অনেক বেশি মহিমান্বিত ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের কারণেও। মারিও গোটশের গোলে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জার্মানি। ম্যাচের ১২৩তম মিনিটে জার্মানির বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। সমতা আনা কিংবা মেসির বিশ্বকাপ স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ওটাই শেষ সুযোগ।
ফ্রি কিক নিতে প্রস্তুত মেসি। টানটান উত্তেজনার সেই মুহূর্তে ড্রুরি বললেন, ‘রোজারিওর ছোট্ট ছেলেটি, তার জার্সি পরা প্রতিটি ছেলের প্রতিনিধি হিসেবে, পিঠে মেসি লেখা মানুষগুলোর হয়ে...আলোর ঝরনাধারার অপেক্ষায়।’ কিন্তু মেসি পারেননি। বল মারেন গোলবারের ওপর দিয়ে। ড্রুরির কণ্ঠে তখন হাহাকার, ‘নো, নো, নো, নো, ইটস্ গন অ্যাওয়ে!’
মারাকানায় সেদিন বিশ্বকাপ জিততে পারেননি মেসি। পেরেছেন আট বছর পর কাতারে। মেসির না–পারার মতো পারার মুহূর্তও বাঙ্ময় হয়ে ওঠে ড্রুরি কণ্ঠে। ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে মন্তিয়েলের শট জালে জড়াতেই যা বলেছিলেন, অনুবাদে তা অনেকটাই মাধুর্য হারাবে, ‘আর্জেন্টিনা, চ্যাম্পিয়নস অব দ্য ওয়ার্ল্ড! আবারও! অবশেষে!’ তারপর স্মরণীয় সেই লাইনগুলো, ‘সান্তা ফে, রোজারিওর সেই ছোট্ট ছেলেটি এইমাত্র স্বর্গে পা রাখল! সে এমন এক ছায়াপথে পৌঁছে গেছে, যেটা শুধুই তার। এটাই তার মুকুট পরার মুহূর্ত।’
হতাশা আর স্বপ্নভঙ্গের দীর্ঘ এক পথ পাড়ি দেওয়ার পর আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতানোর গল্প যদি হয় মেসি-রূপকথা, তবে সেই রূপকথার গল্পকথক তো পিটার ড্রুরি! গত এক বছর বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা আর মেসিভক্তদের কানে যেন বারবার উচ্চারিত হয়েছে ড্রুরির অমর সেই লাইনগুলো।
