পিআরপি অর্থ Platelet Rich Plasma| । রক্তের বিশেষ প্রক্রিয়াজাত অংশবিশেষ যেখানে রক্তরস অণুচক্রিকা (Platelet cell) এবং প্রয়োজনীয় গ্রোথ ফ্যাক্টর সমৃদ্ধ থাকে। এতে যেসব উপাদান থাকে তা নতুন কোষ তৈরির পাশাপাশি পুরনো কোষ উজ্জীবিত করে। এর ফলে দেহের বিভিন্ন অংশ যেমন ত্বক, চুল, অস্থিসন্ধি (Joint), মাংসপেশির আঘাত, টেন্ডনের আঘাত, পুরনো ক্ষত (Non healing ulcer)-এর চিকিৎসায় ব্যবহার হয়।
যেভাবে দেওয়া হয় : পিআরপি দেওয়ার আগে রোগীর নির্দিষ্ট স্থান জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এরপর ঐ জায়গায় স্থানীয়ভাবে অবশকারী ক্রিম বা ইঞ্জেকশন দিয়ে সাময়িকভাবে অবশ করা হয়। থেরাপি নেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে রোগী বাসায় যেতে পারেন এবং স্বাভাবিক সবধরনের কাজকর্ম করতে পারেন। সাধারণত প্রতি মাসে ১ বার করে, ৮ থেকে ১২ মাস এটি করা হয় এবং থেরাপি শুরুর ৩ মাস পর থেকেই রোগী অবস্থার পরিবর্তন ও উন্নতি বুঝতে পারেন। রোগের অবস্থান, রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা সবকিছুর ওপর ভিত্তি করে ফলাফল নির্ভর করে। ভালো ফলাফলের জন্য অনেক সময় থেরাপির পাশাপাশি ওষুধ খাওয়া এবং ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়।
কারা নিতে পারবেন : যাদের প্লাটিলেট সংখ্যা কম, রক্তে ফিব্রিনোজেন কম, শরীরে দীর্ঘমেয়াদি কোনো ইনফেকশনের উপস্থিতি আছে, কোনো ধরনের রক্তরোগ, ক্যানসারের রোগী, দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগ, যারা অ্যান্টি কোয়াগুলেশন থেরাপিতে আছেন (Warferin, Heparin) বা নিয়মিত নিয়ে থাকেন।
যেভাবে কাজ করে?
ইনজেকশনের মাধ্যমে পিআরপি প্রয়োজনীয় স্থানে দেওয়ার পর পিআরপির ভেতরের গ্রেনুউল ভেঙে প্রচুর গ্রোথ ফ্যাক্টর রিলিজ করে যা স্বাভাবিক গ্রোথ ফ্যাক্টরের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে টিস্যুর নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে।
এই থেরাপিতে মানুষ যেমন উপকৃত হচ্ছে তেমনি অদক্ষ কারও হাতে পড়ে মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই পিআরপি চিকিৎসার সুবিধা নিন, অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে।
