নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথমে হাইকোর্ট, পরে আপিল বিভাগে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হক। একইভাবে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন যশোর-৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এনামুল হক বাবুল। তবে ক্ষমতাসীন দলের আরেক প্রার্থী বরিশাল-৪ আসনের শাম্মী আহমেদের ফেরার সুযোগ নেই।
এ ছাড়া বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন না।
গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত থেকে এই প্রার্থীদের বিষয়ে আদেশ আসে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ও স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া এই ব্যক্তিদের কেউ দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে, কারও বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আপিলের কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল। আগামী ৭ জানুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনে ব্যালট পেপারে ভোট হবে।
ফরিদপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের চেম্বার জজ আদালত আদেশ দেয়। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এনে শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যবসায়ী এ কে আজাদ।
গত শুক্রবার আপিল মঞ্জুর করে শামীম হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় ইসি। এর বিরুদ্ধে রিট করেন শামীম হক। গত সোমবার হাইকোর্ট তার রিট সরাসরি খারিজ করে দেয়। গতকাল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেন শামীম হক।
আওয়ামী লীগের আরেক প্রার্থী শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার তার আর কোনো সুযোগ থাকল না। গত সোমবার শাম্মী আহমেদের রিট খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে যশোর-৪ আসনের ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের করা আপিল শুনানি করে তাকে বৈধ বলে আদেশ দেন চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
এর আগে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করেছিল। ওই আদেশের বিরুদ্ধে বাবুল হাইকোর্টে রিট করেন। তবে হাইকোর্ট কমিশনের আদেশ বহাল রেখেছিল। চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে এই প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের নির্দেশ দেয়।
এদিকে বরিশাল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন না।
এর আগে গত সোমবার সাদিকের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর এক সমর্থক ইসিতে তার মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেছিলেন। ইসি সাদিক আবদুল্লাহ মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাকে বৈধতা দিয়েছিল।
