বিজয় র‌্যালিতে কাদের

৭০ শতাংশ লোক নৌকায় ভোট দিতে তৈরি হয়ে আছে

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:৫৪ এএম

দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আগামী ৭ জানুয়ারি ফাইনাল খেলা হবে। ওই দিন ১ হাজার ৮৯৬ জন খেলবেন। আর বিএনপি ২৮ তারিখ (গত ২৮ অক্টোবর) লাল কার্ড খেয়ে এই খেলা থেকে বিদায় নিয়েছে।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের সামনের সড়কে শোভাযাত্রার জন্য মঞ্চ তৈরি করা হয়। বেলা দেড়টা থেকে শত শত পিকআপ ভ্যানে করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ওই এলাকার সড়কে এসে জড়ো হতে থাকেন। ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য শেষে বিকেল ৪টায় শোভাযাত্রা বের করে আওয়ামী লীগ। ঢোলবাদ্য বাজিয়ে কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নেন। সেখানে মাইকে ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’সহ নানা ধরনের গান বাজানো হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে বিজয় শোভাযাত্রা শেষ হয়। ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নৌকার প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতির কারণে এটি অনেকটাই নির্বাচনী শোভাযাত্রায় পরিণত হয়।

শোভাযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় ওবায়দুল কাদের ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত ১৯ জন এমপি প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় পার্টির সমর্থনে প্রার্থী প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সানজিদা খানম, ওয়াকিল উদ্দিন আহমেদ, ইলিয়াছ মোল্লা, ফেরদৌস আহমেদ, ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খেলা হবে। ছাড়াছাড়ি নাই। ৭ জানুয়ারি ফাইনাল। বিএনপি নাই। খবর নাই। এক দফা ভুয়া, বিএনপি ভুয়া, ধানের শীষ ভুয়া। দল আছে ২৭টা। খেলার মাঠ বাংলাদেশ। তাহলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না যারা বলে তারা ভুয়া। টিআইবি ভুয়া, ইফতেখার (ইফতেখারুজ্জামান) ভুয়া, সুজন ভুয়া, বদিউজ্জামান (বদিউল আলম) ভুয়া, এগুলো সব ভুয়া, এরা সব বিএনপির দোসর।’

২৮ অক্টোবল লাল কার্ড খেয়ে বিএনপি বিদায় নিয়েছে দাবি করে কাদের বলেন, ‘তাদের নেতা নাই, আন্দোলন করবে কাকে দিয়ে? নির্বাচন করবে কাকে দিয়ে? ৭০ শতাংশ লোক তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনার নৌকাকে ভোট দেওয়ার জন্য। আগামী বছর আবার আন্দোলন হবে। এ বছর পারল না, আগামী বছর আন্দোলন শুরু হবে। রোজার ঈদ, কোরবানির ঈদ করে পাঁচ বছর কেটে যাবে। পরের পাঁচ বছর শেষে গিয়ে আবারও আন্দোলন।’

গতকাল ভোরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মা-মেয়েসহ চারজনের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ট্রেনে চারটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। এটা গাজায় ইসরায়েলের যে হত্যাকাণ্ড সেই একই দৃশ্য বাংলাদেশে দেখলাম। যারা হত্যা করেছে তাদের ক্ষমা নাই।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, ‘মিথ্যা কথা বলেন। ২১ হাজার নাকি জেলে আছে। আমি পুরোপুরি খবর নিয়ে চ্যালেঞ্জ করছি, জেলে আছে ১১ হাজার। এর মধ্যে আজকে জামিন পেয়ে দুই হাজার বের হয়ে যাচ্ছে। থাকছে কত ৯ হাজার। ২১ হাজার ভুয়া।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তারেকের সাহস নাই, থাকলে এখানে মোকাবিলা করত। রাজপথে থাকত, জেলে যেত। জেলে যেতে যার ভয়, সে তো ভুয়া।’ নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা ভোটকেন্দ্রে বাধা দেবে, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করবে, তাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনমুখী। তারা প্রতিহত করবে। এদের প্রতিহত ও পরাজিত করে শেখ হাসিনাকে পঞ্চমবারের মতো বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত