১. মানুষের মধ্যে মননশীলতার বিকাশ ঘটাতে এবং বাংলা সাহিত্যের সৃজনশীল চর্চার ধারাকে গতিশীল করার লক্ষ্যে আমরা বই প্রকাশ করে থাকি। ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে আমরা প্রয়াসী।
২. আসন্ন বইমেলা নিয়ে আমরা মোটামুটি প্রস্তুতি নিচ্ছি। চেষ্টা করছি পাঠকদের হাতে ভালো কিছু মননশীল-সৃজনশীল বই তুলে দিতে। নতুন বইয়ের সংখ্যা হয়তো গোটা বিশেক। তবে বইগুলো বিষয়গুণে, বৈচিত্র্যে, মানে ও সৌষ্ঠবে আকর্ষণীয় করে তুলতে আমরা সচেষ্ট। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই রয়েছে। আছে চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের ওপর বই। ভাষা-আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া এক নারীকে উপজীব্য করে উপন্যাস। এছাড়াও বেশ কিছু মননশীল গ্রন্থ রয়েছে আমাদের তালিকায়।
৩. আমরা প্রতি বছরই বইয়ের প্রচারণার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়াসহ অন্যান্য গণমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে থাকি। এবারও তেমনটিই রয়েছে পরিকল্পনায়। এর বাইরেও বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনা ইত্যাদি আয়োজনের ভাবনা রয়েছে।
৪. মানসম্পন্ন পান্ডুলিপি পাওয়া দিন দিন দুষ্কর হয়ে পড়ছে। সাহিত্যের সব ক্ষেত্রেই, বিশেষ করে করোনাকালের পর থেকে, একটি শূন্যতা যেন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া প্রকাশনা শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিটি বস্তুর ঊর্ধ্বমূল্য বেকায়দায় ফেলছে নিঃসন্দেহে। প্রকাশনা শিল্পের খরচ বাড়ায় বইয়ের দামও বেড়ে যাচ্ছে, এতে পাঠকদের অনেকেই চাইলেও কিনতে পারছেন না চাহিদামতো বা পছন্দমতো বই। কারণ জীবনযাত্রার ব্যয়ও ঊর্ধ্বমুখী। তাই বইয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে অন্য কোনো খাতে। এছাড়া বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বইয়ের প্রতি আগ্রহ কমে গিয়ে সেই স্থান দখল করছে টেকনোলজি, তাই ভালো বই করেও পাঠকশূন্যতায় ভুগতে হচ্ছে প্রকাশকদের।
আমি আশাবাদী, বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে আমরা রয়েছি তারও অবসান ঘটবে। মানুষ মুখ ফেরাবে বইয়ের দিকে।
৫. আমরা চাই, লেখকরা নতুন কিছু দিন পাঠকদের। হয়তো সেটা পুরনো বিষয়ই হতে পারে, কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গিটা নতুন। অর্থাৎ প্রতিনিয়ত বদলে যাওয়া বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাক মননশীলতার চর্চা। যেসব লেখায় সারবস্তু রয়েছে, দিকনির্দেশনা রয়েছে, ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতিকে জানা-বোঝার উপাদান রয়েছে, যা ভাবনার খোরাক জোগায় এমন পা-ুলিপির প্রতি আমাদের আগ্রহ বেশি। এ ধরনের লেখা পেলে আমরা নিঃসংকোচে বই প্রকাশ করে থাকি।
