ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা গেছে। জোরালো হয়েছে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা। যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল বুধবার মিসরের রাজধানী কায়রোয় যান ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের প্রধান নেতা ইসমাইল হানিয়া। আবার ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ বলেন, ‘গাজায় আরেক দফা যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করতে রাজি আছে ইসরায়েল।’ গত মঙ্গলবার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি হামাসের হাতে বন্দি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে গাজার লড়াইয়ে আরেকটি মানবিক বিরতির কথা বলেন। হেরজগের ওই বক্তব্যের পর মিসরে ইসমাইল হানিয়ার সফরে যুদ্ধবিরতির কথা জানা যায়। এক মাসের বেশি সময় পর এটি হানিয়ার প্রথম মিসর সফর। এ নিয়ে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, মিসরে উচ্চ-পর্যায়ের একটি হামাস প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিয়া। মিসরের গোয়েন্দা প্রধান আব্বাস কামেলের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করবেন। গাজা যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হবে।
এর আগে নভেম্বরে গাজায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়। তখন যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করেছিল কাতার এবং মিসর। সেই বার ২৪০ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং এর বিনিময়ে শতাধিক ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ঢুকে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর থেকে দুপক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। এখন যুদ্ধ বেশ তীব্র স্তরে প্রবেশ করেছে। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ঘনবসতিপূর্ণ গাজার বিভিন্ন লক্ষ্যে অবিরাম বোমা হামলা চালাচ্ছে।
আবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ান গত মঙ্গলবার রাতে কাতারের রাজধানী দোহায় যান। এ সময় তিনি ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে দোহায় বৈঠক করেন। এ সময় তারা ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের খানানি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির জন্য হামাস ও হানিয়া প্রস্তুত। কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলা এখনো চলছে। এ কারণে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
