৪০০ বছর পর ফিরে আসা

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:২০ এএম

স্কটল্যান্ডের কেইনগ্রাম ন্যাশনাল পার্ক ঘেঁষা রোথিমারকেশ স্টেট। অঞ্চলটির বেশিরভাগই গাছপালায় ঢাকা। হাজার বছর ধরে সবুজ অরণ্যের ভেতর দিয়ে কুলকুল বয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট জলধারা। গাছ-গাছালি, ফুল-ফল আর পর্যাপ্ত জলের কারণে সেখানে বসতি করেছে শত শত প্রজাতির পশুপাখি আর কীট-পতঙ্গ। মোটা দাগে জীববৈচিত্রে ইউরোপের অনেকে এলাকার চাইতে প্রাচুর্যময়। অবশ্য কালের বিবর্তনে সেখান থেকে অনেক প্রাণী হারিয়ে গেছে, তবে কিছু প্রাণী হয়তো কয়েক বছর বা কয়েক যুগ পরে ফিরে এসেছে সেখানকার প্রকৃতিতে। সম্প্রতি সেখানকার এক ন্যাশনাল পার্কে ফিরে এসেছে ৪০০ বছর আগে ওই এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রাণী বিভার। বিবিসি জানাচ্ছে, গত সোমবার ওই পার্কে অবমুক্ত করা হয়েছে চারটি বিভার, যেগুলো কয়েকদিন আগে ধরা পড়ে ছিল কেইনগ্রাম ন্যাশনাল পার্কের উজানের ছোট্ট একটি নদীতে। 

বিবিসি বলছে, বিভার চারটির মধ্যে এক জোড়া ছাড়া হয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন রোথিমারকেশ স্টেট এলাকায়। আর দুটি ছাড়া হয়েছে পার্কের আরেকটি এলাকায়। পার্ক কর্র্তৃপক্ষের ইচ্ছা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেখানে বিভারের ১৫টি পরিবার অবমুক্ত করা হবে। এদিকে বিভার ফিরে আসায় ওই এলাকার কিছু জমির মালিক ফসল ও গাছপালার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাদের ভাষ্য, বিভার বেড়ে গেলে এলাকার গাছপাল সব কেটে ফেলবে। পানিপ্রবাহের দিক বদলে দেবে। খামারের ক্ষতি হবে।

অবশ্য প্রাণী বিজ্ঞানী ও প্রকৃতি প্রেমীরা সে আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে ওই এলাকায় প্রাণীটির ফিরে আসায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, জমির মালিকরা যেমনটা ভাবছেন আসলে বিষয়টি ঠিক তার উল্টো হবে। কারণ জলাভূমি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে বিভার। ইঁদুরের মতো ধারালো দাঁতের অধিকারী রোমশ প্রাণী বিভার প্রবহমান জলধারায় বাঁধ দিয়ে আলাদা জলাশয় তৈরি করে সেখানে নিজেদের বসবাসের জায়গা করে নেয়। এতে সেখানে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ কার্বন ও খাদ্য তৈরির বিপুল আধার তৈরি হয়।

জলাভূমি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি রামসার কনভেনশন অন ওয়েটল্যান্ডস এর বরাতে তারা বলছেন, কৃষি ও নগরায়ণের বিস্তৃতির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট উচ্চ তাপমাত্রা ও খরা জলাভূমি আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু কোনো এলাকায় যদি প্রবহমান জলধারা আর বিভার থাকে, তাহলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত