প্রচার-প্রচারণা নিয়ে শঙ্কায় ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

ইসি ও প্রশাসনের আশ্বাস

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:০৩ এএম

দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে ঠিকমতো প্রচার চালান বা কেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠকে এমন শঙ্কার কথা জানান তারা।

ইসি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের আশ্বস্ত করে বলেছি প্রত্যেকটা কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দেবেন। আমাদের অনেকগুলো সাব-কমিটি আছে, তারা সব বিষয় মনিটরিং করবেন। অতএব কোনো না কোনোভাবে আমাদের নজরে আসবে, কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার যে বৈঠক হয়েছে, আজকে সব দেশেই চ্যালেঞ্জ আছে, আমাদেরও চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেই পরিকল্পনাগুলো আমাদের জানিয়েছে। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকেও কিছুটা তাদের সুপারিশ করা হয়েছে। আমরাও নাশকতা মোকাবিলার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জন্য বলেছি। এ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য বলেছি। একে অন্যে যেন শেয়ার করে, যাতে ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারে।’

নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করবেন তারা যেন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশেষ করে যারা ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন, তারা যেন নিরপেক্ষতা, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে যেন নিজের অবস্থান না দেখান সেটা বলা হয়েছে।

বড়পক্ষের নতুন কর্মসূচি, প্রার্থীরা তো আছেনই, আপনারা কতটুকু শঙ্কিত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রার্থীরা এ বিষয়ে খুব একটা শঙ্কা দেখাননি। তারা আরও উপদেশ দিচ্ছেন যে কমিশন যাতে শঙ্কিত না হন। আমাদের তারা আরও সাহস দিয়েছেন, তারা তো শঙ্কিত ননই। আমরা মোটেই শঙ্কিত নই।’

জ্বালাও-পোড়াও বাড়লে কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ১৪টা জেলা ঘুরে এলাম। এমন কিছু দেখিনি, যা দেখি মিডিয়ায় দেখি। স্বাভাবিক জীবনযাপন দেখেছি। মানুষ ভোটকে অনেক উৎসাহের সঙ্গে দেখেছি। নানা রকম মিছিল দেখেছি। সভা করতে দেখেছি। কিন্তু আমি নির্বাচনের বিপক্ষে কোনো অনুষ্ঠান বা কথা দেখিনি।’

পুলিশ কী চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন জানতে চাইরে তিনি বলেন, ‘তারা ক্ষমতাসীন দল ও তার স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, ইতিবাচক অর্থে উত্তেজনামূলক হবে বলেছে।’

এর আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘এবারের নির্বাচনে অতিরিক্ত নাশকতা, আতঙ্ক ও শঙ্কা তৈরির এক ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একটি বা দুটি রাজনৈতিক দলের প্রোগ্রামকে সামনে রেখে এমন নাশকতার পরিবেশ হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’

সকালে ব্যালট পেপার কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কোনো আপত্তি আছে কি না জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করছেন, তারা সবাই এটি মেনে নিয়েছেন। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট জিনিস আগের দিন কেন্দ্রে পাঠানো হবে। শুধু ব্যালট পেপারটি সকালবেলা পৌঁছানো হবে। সেজন্য নির্বাচন কমিশন কিছু গ্রাউন্ড ড্রাফট করেছে। কিছু উপনির্বাচন হয়েছে, সেখানে তারা এই পরীক্ষাগুলো চালিয়েছে। আশা করি এতে কোনো সমস্যা হবে না। সবার সম্মিলিত প্রয়াস থাকলে সামনে যে ভোটযুদ্ধ সেটি সফল হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত